Bangladesh Train Seat

বাংলাদেশ রেলওয়ে বাংলাদেশের সকল ট্রেন পরিচালনা করে থাকে। যাত্রীদের পছন্দ ও বাজেট বিবেচনায় বাংলাদেশের ট্রেনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সিট আছে। আবার সব ট্রেনে সব ধরনের সিট নাই। যখন কোন যাত্রী ট্রেনের টিকিট কাটতে যায় বিশেষত অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে সিট সিলেক্ট করতে যেয়ে Shovon, Snigdha, AC_S এমন নাম দেখে পূর্বে ট্রেন জার্নির অভিজ্ঞতা না থাকলে বোঝার উপায় থাকে না যে, কোন শ্রেণীর সিটে কি ধরনের সুবিধা। তাই আজকের পোস্টে বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান বিভিন্ন শ্রেনী অনলাইন অপশনের বিস্তারিত তুলে ধরছি।

বাংলাদেশ ট্রেনগুলোতে সিটগুলো যে সকল নামে থাকে

  • AC_B = AC Birth / তাপানুকুল স্লিপার। রাত্রীকালীন সময় চলাচলকারী ট্রেনের এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে রাতে ৪ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ২ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে।
  • AC_S = AC Seat / তাপানুকুল স্লিপার। দিনের বেলায় চলাচলকারী ট্রেনে এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে দিনে ৬ জন যাত্রী বসে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ৩ জন যাত্রী বসে যেতে পারে।
  • Snigdha / তাপানুকুল চেয়ারকার। দিবা / রাত্রী যেকোনো ট্রেনের এসি চেয়ার অপশন এটি।
  • F Birth = First Birth/প্রথম। রাত্রীকালীন সময় চলাচলকারী ট্রেনের নন এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে রাতে ৪ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ২ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে।
  • F Seat = First Seat / প্রথম। দিনের বেলায় চলাচলকারী ট্রেনে নন এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে দিনে ৬ জন যাত্রী বসে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ৩ জন যাত্রী বসে যেতে পারে।
  • F Chair = First Chair / প্রথম চেয়ার। ভ্যাকুয়াম এবং ইরানী রেকে চলাচলকারী ট্রেনের শোভন চেয়ারে কাগজে – কলমে উন্নত সংস্করণ।
  • S Chair = Shovon Chair / শোভন চেয়ার। ভ্যাকুয়াম, ইরানী, চাইনিজ, পিটি ইনকা, এল.এইচ.বি এর নন এসি চেয়ার আসন অপশন এটি।
  • Shovon = শোভন। ভ্যাকুয়াম রেকের আন্তঃনগর ট্রেনের সর্বনিম্ন মানের আসন, খাস বাংলা খাড়া সিট।
  • Shulov = সুলভ। মেইল বা কমিউটার ট্রেনের ২য় শ্রেনীর আসন এটি, খাস বাংলায় খাড়া সিট।

ট্রেনের সিট প্রকারভেদ – Train Seat Class Details

বাংলাদেশ সব ট্রেনেই কয়েক ধরণের সিট বা কোচ ক্লাস/শ্রেণী থাকে। টিকেট কেনার সময় বিশেষ করে অনলাইনে টিকেট কেনার সময় সেখানে সিট ক্লাস/শ্রেণী পছন্দ করতে গিয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না, কোন সিট কেমন ধরণের হয় বা ঐ সিটের বিশেষ কি সুবিধা আছে।

আবার অনেকেই হয়তো জানেন না সিট ক্লাস কোডের পূর্ণ রূপ কি বা সেই সিট কেমন বা কি সুবিধা/অসুবিধা আছে। এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্রেনে যে ধরণের সিট বা কোচ ক্লাস/শ্রেণি টাইপ থাকে তা নিচে তুলে ধরা হলো।

  • SHOVAN পুরো নাম শোভন (Shovan)। নন এসি শোভন ক্লাসের চেয়ার সিট। দেশের সকল মেইল ট্রেন ও কিছু আন্তঃনগর ট্রেনে শোভন সিট থাকে। ট্রেনের সবচেয়ে কম খরচের সিট এবং আরামদায়ক নয় এই সিট।
  • S_CHAIR পুরো নাম শোভন চেয়ার (Shovan Chair)। নন এসি এই সেকেন্ড ক্লাস শোভন চেয়ার সিট প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেনে থাকে। শোভন চেয়ারের ভাড়া শোভন এর চেয়ে বেশী। সিট মোটামুটি আরামদায়ক। শোভন চেয়ার, শোভন এর চেয়ে ভালো সিটের হয়ে থাকে।
  • SNIGDHA পুরো নাম স্নিগ্ধা (Snigdha)। এসি চেয়ার (AC Chair) হিসেবেও পরিচিত। এসি কোচের চেয়ার সিট। দেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনে না থাকলেও বেশিরভাগ জনপ্রিয় গন্তব্যের ট্রেনে স্নিগ্ধা কোচ থাকে। সীট শোভন চেয়ারের চেয়ে আরামদায়ক। পুরো কোচ এসি থাকায় ভ্রমণও আরামদায়ক হয়।
  • F_CHAIR পুরো নাম ফার্স্ট ক্লাস চেয়ার (First Class Chair)। নন এসি চেয়ার। শোভন চেয়ার (F_CHAIR) এর চেয়ে আরামদায়ক সিট। সব আন্তঃনগর ট্রেনে এই টাইপ থাকেনা।
  • F_BERTH পুরো নাম ফার্স্ট ক্লাস বার্থ (First Class Berth)। নন এসি কেবিন সিট। রাতের ট্রেনে এই ক্লাস পাওয়া যায়। এখানে ঘুমানোর সুযোগ রয়েছে। দিনের বেলায় এই কোচ ক্লাস (F_SEAT) ফার্স্ট ক্লাস সিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • F_SEAT পুরো নাম ফার্স্ট ক্লাস সিট (First Class Seat)। দিনের ট্রেনে নন এসি কেবিন গুলো এই সিট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এখানে ঘুমানোর সুযোগ নেই, বসে যেতে হবে। মূলত (F_BERTH) কেবিন গুলোই দিনের বেলা (F_SEAT) সিট হিসেবে ব্যবহার হয়।
  • AC_B পুরো নাম এসি বার্থ (AC Berth)। এয়ার কন্ডিশনড কেবিন। শুধু রাতের ট্রেনে এই ক্লাস পাওয়া যায়। ২ অথবা ৪ সিটের কেবিন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের দূরপাল্লার আন্তঃনগর রাতের ট্রেনে এই কেবিন থাকে। বাংলাদেশের ট্রেন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে আরামদায়ক ও বেশী খরচের সিট।
  • AC_S পুরো নাম এসি সিট (AC Seat)। এয়ার কন্ডিশনড সিট। মূলত এসি বার্থ (AC_B) কেবিন গুলো দিনের বেলার যাত্রার সময় এসি সিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

কোন যাত্রায় কেমন সিট সিলেক্ট করবেন?

যদিও ট্রেনের সিটের পছন্দের বিষয়ে প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ আছে। আবার বাজেটের বিষয়ে বিবেচনায় আনতে হয়। তারপরও একজন নিয়মিত ট্রেন যাত্রীর অভিজ্ঞতায় আমাদের নিজস্ব মতামত এখানে প্রকাশ করছি যা অধিকাংশ মানুষই আমাদের সাথে একমত হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

১। দূরপাল্লার ট্রেন ভ্রমণের জন্যে শোভন এর টিকেট না কেনাই ভালো। সিট গুলো আরামদায়ক না হওয়ায় দূরের যাত্রাপথ আপনার জন্যে কষ্টকর হয়ে যাবে। তার উপর শোভন কোচে স্ট্যান্ডিং মানুষ বেশী থাকে এবং পরিবেশ তেমন ভাল হয়না।

২। যদি কম খরচ ও একটু আরামদায়ক সিটে ট্রেন ভ্রমণ করতে চান তাহলে শোভন চেয়ার (নন এসি) সিট সবচেয়ে ভালো হবে। খরচ ও কম হবে এবং সিটে বসে আরাম ও পাবেন।

৩। এসি কোচের কথা চিন্তা করলে স্নিগ্ধা সবচেয়ে ভালো।

৪। রাতের বেলায় কেবিন গুলো দিনের বেলায় সিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কেবিনে বসে যাওয়াটা একটু কষ্টকর। সেই হিসেবে দিনের বেলা নন এসি ফার্স্ট ক্লাস সিট (F_SEAT) বা এসি সিট (AC_S) এ না গিয়ে শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধাতে ভ্রমণ আরামদায়ক হবে।

৫। যদি পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করেন এবং প্রাইভেসি চান তাহলে দিন বা রাত কেবিন পুরোটা বুক করলে ভালো হবে।

অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটার নিয়ম 

শেষ কথা

এই ছিলো বাংলাদেশ ট্রেনের সিট প্রকারভেদ নিয়ে আমাদের আলোচনা। বর্তমানে প্রত্যেক যাত্রীর ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। আবার যেহেতু অল্প খরচে ট্রেন জার্নি করা যায় তাই ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বিশেষত ছুটির আগের দিনগুলোতে বেশি থাকে। তাই আপনি যদি ট্রেনে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তবে অবশ্যই অগ্রিম ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে রাখবেন এবং ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আগে থেকেই প্রস্তুত রাখবেন।

About The Author

Leave a Reply