জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবারও আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে। এবার ব্যক্তি করদাতাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলোর জন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এটি এনবিআরের তৃতীয় দফা সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এবং ১৭ নভেম্বর পৃথক দুটি আদেশে দুই দফায় এক মাস করে সময় বাড়ানো হয়েছিল। দেশে বর্তমানে এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ধারী করদাতা রয়েছেন। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ টিআইএনধারী করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়সীমার পর আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর এই প্রবণতা থেকে বের হতে পারছে না এনবিআর। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
এনবিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তবে অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে মোট কত রিটার্ন জমা পড়েছে, সেই চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি এনবিআর।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও, বারবার সময়সীমা বাড়ানোর প্রবণতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, কর ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা ও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে করদাতারা রিটার্ন জমা দিতে পারেন। এনবিআরের উচিত করদাতাদের জন্য আরও সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যাতে অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়া আরও সুবিধাজনক ও দ্রুততর হয়।
