আপনি কি প্রথমবার বিমানে চড়ছেন, নাকি নিয়মিত যাত্রী? দুই ক্ষেত্রেই একটি প্রশ্ন সবার মনে ঘোরে। ব্যাগে কী রাখা যাবে আর কী যাবে না? বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিস সম্পর্কে ধারণা না থাকলে নিরাপত্তা তল্লাশিতে আটকে যেতে পারেন। কখনো দামি প্রসাধনী ফেলে দিতে হয়, আবার কখনো ফ্লাইটও মিস হয়ে যায়।
অনেকেই গুগলে লেখেন বিমানে কি কি নেওয়া যাবে না কিংবা বিমানে হাত ব্যাগে কি কি নেওয়া যায় না। এই লেখায় আমরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তালিকা ধরে দুটো প্রশ্নেরই সহজ উত্তর দিয়েছি। ক্যাবিন লাগেজে কী নিষিদ্ধ, চেক-ইন লাগেজে কী নিষিদ্ধ এবং দুই জায়গাতেই কোন জিনিস একেবারে বর্জনীয়, সবই পাবেন।
এছাড়া লাইটার, পাওয়ার ব্যাংক, সিগারেট, তরল, নেইল কাটার, মাছ-মাংস, বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি এবং এয়ারপোর্টে কী কী চেক করা হয়, এসব জিজ্ঞাসারও পরিষ্কার উত্তর থাকছে। তাই শেষ পর্যন্ত পড়লে ঝামেলা ছাড়াই প্যাকিং সেরে ফেলতে পারবেন।
বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিস নিয়ে এত কড়াকড়ি কেন?
আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় বিমান থামিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না। তাই ছোট একটি ঝুঁকিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ধারালো জিনিস অন্য যাত্রী ও ক্রুদের জন্য হুমকি তৈরি করে। এছাড়া দাহ্য পদার্থ বা ব্যাটারি থেকে আগুন লাগলে পুরো ফ্লাইট বিপদে পড়ে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিষিদ্ধ জিনিসকে চারটি ভাগে দেখিয়েছে। প্রথমটি ক্যাবিন লাগেজে নিষিদ্ধ জিনিস। দ্বিতীয়টি চেক-ইন লাগেজে নিষিদ্ধ জিনিস। তৃতীয়টি দুই ধরনের লাগেজেই নিষিদ্ধ জিনিস। চতুর্থটি হলো রেস্ট্রিক্টেড আইটেম।
শুরুতেই দুটি শব্দ পরিষ্কার করে নিই। ক্যাবিন লাগেজ বা হ্যান্ড লাগেজ আপনি সঙ্গে নিয়ে বিমানের ভেতরে ওঠেন। অন্যদিকে চেক-ইন লাগেজ কাউন্টারে জমা দেন এবং সেটি বিমানের কার্গো অংশে যায়।
হ্যান্ড লাগেজে বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকা
যারা বিমানে কি কি নেওয়া যাবে না খুঁজছেন, তাদের জন্য এই অংশটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হ্যান্ড লাগেজ সবার সামনে চেক হয়, তাই এখানে ভুল হলে সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। বিমানে হাত ব্যাগে কি কি নেওয়া যায় না, তা নিচে পাঁচটি ভাগে সাজানো হলো।
ধারালো ও কাটার জিনিস
যেকোনো দৈর্ঘ্যের ব্লেডযুক্ত ছুরি, বক্স কাটার, রেজর ব্লেড, কাঁচি ও নেইল কাটার এই তালিকায় আছে। এছাড়া মাংস কাটার ভারী ছুরি, তলোয়ার, করাত, কুড়াল এবং সুইস আর্মি মাল্টি টুল নিষিদ্ধ। যেকোনো ছুঁচালো বা ধারালো বস্তুও একই নিয়মের আওতায় পড়ে। তাই নেইল কাটার বিমানে নেওয়া যাবে কি প্রশ্নের উত্তর হ্যান্ড লাগেজের ক্ষেত্রে “না”।
যন্ত্রপাতি ও খেলাধুলার সরঞ্জাম
হাতুড়ি, ক্রো বার, রেঞ্চ, ড্রিল ও ড্রিল বিট ক্যাবিনে রাখা যাবে না। একইভাবে ক্রিকেট ব্যাট, স্টাম্প, বেসবল, বিলিয়ার্ড বল, ব্যাডমিন্টন বা টেনিস র্যাকেট, হকি স্টিক ও গল্ফ ক্লাব নিষিদ্ধ। স্কেট, স্কিপিং রোপ, সাধারণ রশি এবং তীর-ধনুকও তালিকায় আছে।
অস্ত্র ও অস্ত্রসদৃশ জিনিস
ফ্লেয়ার গান এবং আসল অস্ত্রের মতো দেখতে নকল অস্ত্র নেওয়া যাবে না। গুলতি ও মার্শাল আর্টের অস্ত্রও নিষিদ্ধ। এর সঙ্গে নানচাকু, ব্যাটন, নিনজা স্টার এবং সেলফ ডিফেন্স স্প্রে যুক্ত রয়েছে।
দাহ্য ও বিস্ফোরক জিনিস
বিমানে লাইটার নেওয়া যায় কি, এটি খুব পরিচিত একটি প্রশ্ন। উত্তর হলো না। গ্যাস লাইটার, ইলেকট্রিক লাইটার ও দেশলাই ক্যাবিনে নিষিদ্ধ। আতশবাজি, স্টারলাইট, জ্বালানি, অ্যারোসল, দাহ্য রং ও টারপেনটাইনও নেওয়া যাবে না। এছাড়া আইইডি (হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস) এবং আইডিডি (হাতে তৈরি অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইস) তো প্রশ্নাতীতভাবে নিষিদ্ধ।
খাবার, তরল ও অন্যান্য
তালিকায় অ্যালকোহল, মাংস ও মাছ আছে। তাই বিমানে মাছ মাংস নেওয়া যায় কি প্রশ্নের উত্তর হ্যান্ড লাগেজের ক্ষেত্রে “না”। ১০০ মিলির বেশি তরল ক্যাবিনে নেওয়া যায় না। ফলে পারফিউম, লোশন বা পানীয় কিনলে ছোট বোতলে ভরে নিন। থার্মোমিটারও তালিকায় আছে।
চেক-ইন লাগেজে বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিস
এবার কাউন্টারে জমা দেওয়া ব্যাগের নিয়ম দেখা যাক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তালিকায় চেক-ইন লাগেজে এই জিনিসগুলো নিষিদ্ধ:
- জ্বালানি (ফুয়েল)
- পেট্রোল
- গ্যাস লাইটার
- লিথিয়াম ব্যাটারি
- পাওয়ার ব্যাংক
- দাহ্য উপাদান (কম্বাসটিবল ম্যাটেরিয়াল)
- আইইডি
- আইডিডি
এখানে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করে বিমানে কি পাওয়ার ব্যাংক নেওয়া যায় প্রশ্নটি। উত্তর হলো, চেক-ইন লাগেজে যাবে না, কিন্তু হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া যায়। চেক-ইন লাগেজের নিষিদ্ধ তালিকায় পাওয়ার ব্যাংক ও লিথিয়াম ব্যাটারি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। অন্যদিকে ক্যাবিন লাগেজের নিষিদ্ধ তালিকায় এই দুটোর নাম নেই। তাই পাওয়ার ব্যাংক সবসময় সঙ্গে রাখা ব্যাগেই বহন করুন।
কারণটাও সহজ। লিথিয়াম ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হলে আগুন ধরতে পারে। কার্গো অংশে আগুন দ্রুত ধরা কঠিন, আর কেবিনে ক্রুরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে পাওয়ার ব্যাংকের ক্ষমতার সীমা এয়ারলাইনভেদে আলাদা হতে পারে। কিছু এয়ারলাইন ফ্লাইটের ভেতরে চার্জ দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রাখে। তাই টিকিট কাটা এয়ারলাইনের নীতি আগে দেখে নিন।
দুই ধরনের লাগেজেই বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিস
কিছু জিনিস ক্যাবিন ও চেক-ইন, দুই জায়গাতেই একেবারে নিষিদ্ধ। এখানে কোনো বিকল্প পথ নেই। তালিকায় চারটি জিনিস আছে:
- গ্যাস লাইটার
- ইলেকট্রিক লাইটার
- আইইডি (হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস)
- আইডিডি (হাতে তৈরি অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইস)
সাধারণ যাত্রীর জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক জিনিস হলো লাইটার। ধূমপায়ী হলে বিমানবন্দরে ঢোকার আগেই লাইটার বাসায় রেখে আসুন। বিমানে কি সিগারেট নেওয়া যায়, এই প্রশ্নও অনেকে করেন। অফিসিয়াল নিষিদ্ধ তালিকায় সিগারেটের নাম নেই। তবে সঙ্গে লাইটার বা দেশলাই রাখা যাবে না। এছাড়া গন্তব্য দেশে শুল্কমুক্তভাবে কতটুকু সিগারেট নেওয়া যায়, সেই সীমা দেশভেদে আলাদা। তাই যাত্রার আগে কাস্টমস নিয়ম দেখে নেওয়া ভালো।
অনেকের পুরোনো ব্যাগের কোণে ভুলে একটি লাইটার পড়ে থাকে। তাই প্যাকিংয়ের সময় প্রতিটি পকেট ভালোভাবে হাতড়ে দেখুন।
বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিসের রেস্ট্রিক্টেড তালিকা
ওয়েবসাইটে “রেস্ট্রিক্টেড আইটেম” নামে আলাদা একটি পাতা আছে। সেখানে তিনটি জিনিসের নাম রয়েছে:
- আগ্নেয়াস্ত্র (ফায়ারআর্মস)
- গোলাবারুদ (অ্যামিউনিশন)
- বিস্ফোরকের নিখুঁত অনুকৃতি (রিয়ালিস্টিক রেপ্লিকা অব এক্সপ্লোসিভ)
এই জিনিসগুলো সাধারণ যাত্রীর ব্যাগে থাকার কথাই নয়। বিশেষ কোনো বৈধ কারণ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া লাগে। অনুমতি ছাড়া বহন করলে গুরুতর আইনি ব্যবস্থার ঝুঁকি থাকে। তাই খেলনা হলেও বাস্তবের মতো দেখতে কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরকের নকল সঙ্গে রাখবেন না।
বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি ও চেকিং প্রক্রিয়া
শুধু লাগেজ নয়, বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি নিয়েও অনেকের প্রশ্ন থাকে। সাধারণত বৈধ টিকিট, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বোর্ডিং পাস ছাড়া টার্মিনালের ভেতরে ঢোকা যায় না। যাত্রীকে বিদায় জানাতে আসা মানুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে। সেটি বিমানবন্দর ও সময়ভেদে বদলায়, তাই যাওয়ার আগে হটলাইনে জেনে নেওয়া ভালো।
এয়ারপোর্টে কি কি চেক করে, এই প্রশ্নের উত্তরও সহজ করে বলা যাক। সাধারণত নিরাপত্তা তল্লাশিতে তিনটি ধাপ থাকে:
- লাগেজ এক্স-রে স্ক্যানিং, যেখানে ধারালো, দাহ্য বা বিস্ফোরক জাতীয় জিনিস শনাক্ত হয়।
- মেটাল ডিটেক্টর বা স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীর দেহ তল্লাশি।
- পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাসের সঙ্গে যাত্রীর পরিচয় যাচাই।
এর কোনো একটি ধাপে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ বা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাই সময় বাঁচাতে ফ্লাইটের অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো ভালো।
এক নজরে বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিসের তুলনা
কোন জিনিস কোথায় নিষিদ্ধ, নিচের ছকে দ্রুত দেখে নিন। এটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তালিকা অনুযায়ী।
| জিনিস | ক্যাবিন লাগেজ | চেক-ইন লাগেজ |
|---|---|---|
| গ্যাস লাইটার | নিষিদ্ধ | নিষিদ্ধ |
| ইলেকট্রিক লাইটার | নিষিদ্ধ | নিষিদ্ধ |
| জ্বালানি (ফুয়েল) | নিষিদ্ধ | নিষিদ্ধ |
| পাওয়ার ব্যাংক | নিষিদ্ধ তালিকায় নেই | নিষিদ্ধ |
| লিথিয়াম ব্যাটারি | নিষিদ্ধ তালিকায় নেই | নিষিদ্ধ |
| কাঁচি ও নেইল কাটার | নিষিদ্ধ | নিষিদ্ধ তালিকায় নেই |
| ১০০ মিলির বেশি তরল | নিষিদ্ধ | নিষিদ্ধ তালিকায় নেই |
| মাছ ও মাংস | নিষিদ্ধ | নিষিদ্ধ তালিকায় নেই |
| আইইডি ও আইডিডি | নিষিদ্ধ | নিষিদ্ধ |
বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিস নিয়ে ধরা পড়লে কী হয়
সাধারণত স্ক্যানারে ধরা পড়লে নিরাপত্তা কর্মীরা জিনিসটি রেখে দেন বা ফেলে দিতে বলেন। এতে সময় নষ্ট হয় এবং লাইনে আবার দাঁড়াতে হতে পারে। তবে অস্ত্র বা বিস্ফোরকের মতো গুরুতর জিনিস পেলে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
ঝামেলা এড়াতে প্যাকিংয়ের সময় এই বিষয়গুলো মেনে চলুন:
- পুরোনো ব্যাগ ভালোভাবে ঘেঁটে দেখুন। লাইটার, ব্লেড বা কাঁচি ভুলে থেকে যেতে পারে।
- প্রসাধনী ও তরল ১০০ মিলির চেয়ে ছোট বোতলে নিন।
- পাওয়ার ব্যাংক ও অতিরিক্ত ব্যাটারি হ্যান্ড লাগেজে রাখুন।
- নেইল কাটার, কাঁচি বা রেজরের মতো জিনিস চেক-ইন ব্যাগে দিন।
- মাছ ও মাংস নিতে চাইলে শক্ত প্যাকেটে চেক-ইন ব্যাগে রাখুন। তবে এয়ারলাইন ও গন্তব্য দেশের কাস্টমস নিয়ম আগে দেখে নিন।
- সন্দেহ থাকলে বিমানবন্দরের হটলাইন ১৩৬০০ বা ০৯৬১৪-০১৩৬০০ নম্বরে ফোন করুন।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ধারালো জিনিস, লাইটার ও দেশলাই, দাহ্য পদার্থ, অস্ত্র ও অস্ত্রসদৃশ জিনিস, ১০০ মিলির বেশি তরল এবং বিস্ফোরক ডিভাইস নেওয়া যাবে না। চেক-ইন লাগেজে পাওয়ার ব্যাংক ও লিথিয়াম ব্যাটারিও নিষিদ্ধ।
ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, রেজর ব্লেড, হাতুড়ি, খেলাধুলার ব্যাট, লাইটার, অ্যারোসল, অ্যালকোহল, মাছ-মাংস ও ১০০ মিলির বেশি তরল হাত ব্যাগে নেওয়া যায় না।
হ্যাঁ, হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া যায়। তবে চেক-ইন লাগেজে পাওয়ার ব্যাংক নিষিদ্ধ। এয়ারলাইনভেদে ক্ষমতার সীমা আলাদা হতে পারে, তাই টিকিট কাটার আগে নিয়ম দেখে নিন।
অফিসিয়াল নিষিদ্ধ তালিকায় সিগারেটের নাম নেই। তবে লাইটার ও দেশলাই নিষিদ্ধ, আর গন্তব্য দেশে শুল্কমুক্ত পরিমাণের সীমা আলাদা হতে পারে।
সাধারণত লাগেজ এক্স-রে স্ক্যানিং, যাত্রীর দেহ তল্লাশি এবং পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাসের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হয়।
প্রশ্ন: বিমানে কি কি নেওয়া যাবে না?
উত্তর: ধারালো জিনিস, লাইটার ও দেশলাই, দাহ্য পদার্থ, অস্ত্র ও অস্ত্রসদৃশ জিনিস, ১০০ মিলির বেশি তরল এবং বিস্ফোরক ডিভাইস নেওয়া যাবে না। চেক-ইন লাগেজে পাওয়ার ব্যাংক ও লিথিয়াম ব্যাটারিও নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন: বিমানে হাত ব্যাগে কি কি নেওয়া যায় না?
উত্তর: ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, রেজর ব্লেড, হাতুড়ি, খেলাধুলার ব্যাট, লাইটার, অ্যারোসল, অ্যালকোহল, মাছ-মাংস ও ১০০ মিলির বেশি তরল হাত ব্যাগে নেওয়া যায় না।
প্রশ্ন: বিমানে কি পাওয়ার ব্যাংক নেওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া যায়। তবে চেক-ইন লাগেজে পাওয়ার ব্যাংক নিষিদ্ধ। এয়ারলাইনভেদে ক্ষমতার সীমা আলাদা হতে পারে, তাই টিকিট কাটার আগে নিয়ম দেখে নিন।
প্রশ্ন: বিমানে কি সিগারেট নেওয়া যায়?
উত্তর: অফিসিয়াল নিষিদ্ধ তালিকায় সিগারেটের নাম নেই। তবে লাইটার ও দেশলাই নিষিদ্ধ, আর গন্তব্য দেশে শুল্কমুক্ত পরিমাণের সীমা আলাদা হতে পারে।
প্রশ্ন: বিমানে লাইটার নেওয়া যায় কি?
উত্তর: না। গ্যাস ও ইলেকট্রিক লাইটার ক্যাবিন এবং চেক-ইন, দুই লাগেজেই নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন: বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি পেতে কী কী লাগে?
উত্তর: সাধারণত বৈধ টিকিট, পাসপোর্ট বা এনআইডি এবং বোর্ডিং পাস লাগে। বিদায় জানাতে আসা মানুষের প্রবেশের নিয়ম বিমানবন্দরের হটলাইনে জেনে নেওয়া ভালো।
প্রশ্ন: এয়ারপোর্টে কি কি চেক করে?
উত্তর: সাধারণত লাগেজ এক্স-রে স্ক্যানিং, যাত্রীর দেহ তল্লাশি এবং পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাসের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হয়।
উপসংহার
বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ জিনিস সম্পর্কে আগে থেকে জানলে ভ্রমণ অনেক সহজ হয়। মনে রাখবেন, ক্যাবিন লাগেজে ধারালো জিনিস, ১০০ মিলির বেশি তরল, মাছ-মাংস ও দাহ্য বস্তু নিষিদ্ধ। চেক-ইন লাগেজে পাওয়ার ব্যাংক ও লিথিয়াম ব্যাটারি রাখা যাবে না। আর লাইটার এবং বিস্ফোরক ও অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইস দুই জায়গাতেই নিষিদ্ধ।
যারা নিশ্চিত নন বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি পেতে কী লাগবে, তারা টিকিট, পাসপোর্ট বা এনআইডি এবং বোর্ডিং পাস সঙ্গে রাখবেন। নিয়ম বদলাতে পারে, তাই যাত্রার আগে এয়ারলাইন বা বিমানবন্দরের হটলাইনে একবার যাচাই করে নিন। লেখাটি কাজে লাগলে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন।