বাংলাদেশে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। কিন্তু অনেক নারীই জানেন না তাদের জন্য ঠিক কোন কোন কাগজ দরকার, ফি কত এবং আবেদন করার নিয়ম কী। সঠিক তথ্য না জানলে পুরো প্রক্রিয়া জটিল মনে হয়। এই গাইডে সহজ ভাষায় সব বিষয় জানানো হয়েছে।
নারীদের ই-পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রস্তুত রাখুন:
- অনলাইন আবেদনপত্র (প্রিন্ট): সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইট থেকে ফরম পূরণ করে প্রিন্ট করতে হবে।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিট: বায়োমেট্রিকের জন্য নির্ধারিত তারিখের প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): মূল কপি এবং ফটোকপি উভয়ই দিতে হবে। তথ্য আবেদনের সঙ্গে মিলতে হবে।
- ব্যাংক পেমেন্ট রশিদ: পাসপোর্ট ফি জমার রশিদ ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
- পুরনো পাসপোর্ট (নবায়নের ক্ষেত্রে): আগের পাসপোর্ট থাকলে অবশ্যই জমা দিতে হবে।
- কাবিননামা / বিবাহ সনদ: বিবাহিত নারীর NID-তে স্বামীর নাম না থাকলে বা পরিবর্তন দরকার হলে লাগতে পারে।
- NOC ও পেশাগত পরিচয়পত্র: সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে NOC লাগবে।
💡 মনে রাখুন: পাসপোর্ট অফিসেই ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যান নেওয়া হয়, তাই আলাদা ছবি নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই।
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম
💼 চাকরিজীবী নারীদের জন্য
- সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে NOC (No Objection Certificate) সংগ্রহ করতে হবে।
- পেশাগত পরিচয়পত্রের একটি কপিও জমা দিতে হতে পারে।
- প্রতিষ্ঠানের প্যাডে অফিসিয়াল স্বাক্ষরসহ NOC দিতে হবে।
💍 বিবাহিত নারীদের জন্য
- NID-তে যদি স্বামীর নাম সংযোজন বা সংশোধন দরকার হয়, তাহলে কাবিননামা বা বিবাহ সনদ জমা দিতে হবে।
- কাবিননামার মূল কপি এবং ফটোকপি উভয়ই সঙ্গে রাখুন।
👧 ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে
- NID-এর পরিবর্তে জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে হয়।
- বাবা-মায়ের NID তথ্যও প্রয়োজন হয়।
ধাপে ধাপে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া
নারীদের ই-পাসপোর্ট আবেদন মাত্র কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা যায়:
- অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ: সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। NID-এর সঙ্গে প্রতিটি তথ্য মেলানো বাধ্যতামূলক।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ: ফরম পূরণের সময়ই বায়োমেট্রিকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সেই তারিখের প্রিন্ট কপি রেখে দিন।
- ফি পরিশোধ: ব্যাংক বা অনলাইনে পাসপোর্ট ফি জমা দিন। রশিদটি যত্নে রাখুন, এটি আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিতি: নির্ধারিত তারিখে সব কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান। সেখানে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হবে।
- পাসপোর্ট সংগ্রহ: আবেদনের ধরন (সাধারণ, জরুরি বা এক্সপ্রেস) অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।
পাসপোর্ট ফি কত? (২০২৬ সালের তালিকা)
পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে মেয়াদ ও ডেলিভারির গতির উপর। নিচের তালিকাটি দেখুন:
| মেয়াদ ও পৃষ্ঠা | সাধারণ (Regular) | জরুরি (Urgent) | এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৫ বছর / ৪৮ পৃষ্ঠা | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ১০ বছর / ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৫ বছর / ৬৪ পৃষ্ঠা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,৬৫০ টাকা |
| ১০ বছর / ৬৪ পৃষ্ঠা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের মতে, সামান্য ভুল তথ্য দিলেও আবেদন বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে। তাই কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ:
- আবেদনপত্রের প্রতিটি তথ্য NID-এর সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।
- আবেদন করার সময় NID অনলাইন ভেরিফাইড থাকতে হবে।
- পেমেন্ট রশিদ ছাড়া আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয় না।
- অ্যাপয়েন্টমেন্টের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকুন, দেরি হলে নতুন তারিখ নিতে হতে পারে।
- নবায়নের ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্ট সঙ্গে আনা বাধ্যতামূলক।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
মহিলাদের ই-পাসপোর্ট করতে কি ছবি নিয়ে যেতে হয়?
না, আলাদা ছবি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পাসপোর্ট অফিসেই সরাসরি ছবি, আঙুলের ছাপ এবং আইরিস স্ক্যান নেওয়া হয়।
ই-পাসপোর্ট করতে বিবাহিত নারীদের কি কাবিননামা দিতেই হবে?
সব ক্ষেত্রে নয়। যদি NID-তে স্বামীর নাম সংযোজন বা পরিবর্তন দরকার না হয়, তাহলে কাবিননামা লাগে না। তবে প্রয়োজন হলে মূল কপি ও ফটোকপি উভয়ই দিতে হবে।
১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েরা কীভাবে পাসপোর্ট করবে?
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জন্য NID-এর পরিবর্তে জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে হয়। সেইসঙ্গে বাবা-মায়ের NID তথ্যও জমা দিতে হবে।
পাসপোর্ট পেতে কতদিন সময় লাগে?
সাধারণ সার্ভিসে সাধারণত ১৫ থেকে ২১ কার্যদিবস লাগে। জরুরি সার্ভিসে ৭ কার্যদিবস এবং এক্সপ্রেস সার্ভিসে ২ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পাওয়া সম্ভব।
ই-পাসপোর্ট করতে চাকরিজীবী নারীরা কোথা থেকে NOC পাবেন?
কর্মরত প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে NOC নিতে হয়। বেসরকারি ক্ষেত্রে HR বিভাগ থেকে অফিসিয়াল প্যাডে নেওয়া যাবে।
অনলাইনে পাসপোর্টের ফি কীভাবে দেওয়া যায়?
ব্যাংকে সরাসরি জমা দেওয়ার পাশাপাশি এখন বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (বিকাশ, নগদ, রকেট) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করা যায়।
পাসপোর্টের আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ কী?
আবেদনপত্রে তথ্য ও NID-এর তথ্যে গরমিল, পেমেন্ট রশিদ না থাকা, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র এবং NID অনলাইন ভেরিফাইড না হওয়া — এই কারণগুলোতে আবেদন বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে।
এখনই আবেদন শুরু করুন!
সব কাগজপত্র প্রস্তুত? তাহলে আজই সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে গিয়ে অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।
