ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজ লাগে ২০২৬

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তা অনেকেই জানেন না, ফলে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী (জুন ২০২৬), বয়স ও পেশাভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা আলাদা।

এই আর্টিকেলে শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবাহিত, সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রবাসীদের জন্য আলাদাভাবে ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার পূর্ণ তালিকা দেওয়া হয়েছে। আবেদন করার আগে এই তথ্যগুলো একবার দেখে নিলে সময় ও ঝামেলা দুটোই বাঁচবে।

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে: সাধারণ নিয়ম

ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়। পুরনো পদ্ধতিতে যেমন ছবি সত্যায়ন বা কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন হতো, এখন আর তা লাগে না। ফরমে কোনো ছবি সংযোজন বা সত্যায়নের দরকার নেই। আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) অনুযায়ী।

আবেদন জমা দিতে হবে বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তা মূলত নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়স, পেশা ও বৈবাহিক অবস্থার উপর।

বয়স অনুযায়ী ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে

সরকারি নির্দেশনায় বয়সের ভিত্তিতে তিনটি আলাদা বিভাগ রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে ভিন্ন কাগজপত্র প্রযোজ্য।

১. ১৮ বছরের নিচে: অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) আবশ্যক।

২. ১৮ থেকে ২০ বছর: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) যেকোনো একটি চলবে।

৩. ২০ বছরের উপরে: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অবশ্যই লাগবে।

    তবে বিদেশে অবস্থানরত যারা বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ২০ বছরের উপরেও অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহণযোগ্য।

    শিশুদের ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে

    শিশুদের (১৮ বছরের নিচে) জন্য ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তা একটু আলাদা। এই বয়সে সাধারণত NID থাকে না, তাই অভিভাবকের তথ্য ব্যবহার করতে হয়।

    • অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version)
    • পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর (আবশ্যক, যদি শিশুর নিজের NID না থাকে)
    • ৬ বছরের নিচের শিশুর জন্য ৩R সাইজের ছবি (ল্যাব প্রিন্ট, ধূসর/গ্রে ব্যাকগ্রাউন্ড)

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৮ বছরের নিচের সব আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ বছর এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা হবে ৪৮টি। দত্তক বা অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে জারি করা আদেশ জমা দিতে হবে।

    বিবাহিতদের ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে

    বিবাহিত ব্যক্তিদের ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার মধ্যে সাধারণ কাগজপত্রের পাশাপাশি বিবাহ সংক্রান্ত দলিলও অন্তর্ভুক্ত।

    • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
    • বিবাহ সনদ বা নিকাহনামা
    • বিবাহবিচ্ছেদ হলে তালাকনামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

    বিবাহ সনদ না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হতে পারে। তাই ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার তালিকায় বিবাহিতদের জন্য এই কাগজটি আলাদাভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি।

    সরকারি ও পেশাদার ব্যক্তিদের ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে

    ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার বা অন্য পেশাদার সনদধারীদের ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার তালিকায় পেশাগত কাগজও যুক্ত হয়।

    • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
    • প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদ (যেমন MBBS সনদ, ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স)
    • সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে: জিও (GO) বা এনওসি (NOC), পেনশন বই বা অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order) – প্রযোজ্য ক্ষেত্রে

    গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, এই সনদ ও অনুমোদনপত্রগুলো ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোড থাকতে হবে। অনলাইনে না থাকলে সেগুলো গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

    প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে

    বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা স্থানীয় বাংলাদেশ মিশন থেকে ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার কিছু বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য।

    • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) – ২০ বছরের উপরে হলেও BRC গ্রহণযোগ্য
    • আবেদনপত্রের স্থায়ী ঠিকানার কলামে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে

    প্রবাসীদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যাদের NID নেই বা হারিয়ে গেছে, তারা BRC দিয়েও আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।

    জরুরি ও অতি জরুরি পাসপোর্টে ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে

    দ্রুত পাসপোর্ট পেতে চাইলে ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার মধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    ১. অতি জরুরি (২ কর্মদিবস): সাধারণ কাগজপত্রের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ জমা দিলে ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।

    ২. জরুরি (৭ কর্মদিবস): পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ আবেদন করলে ৭ কর্মদিবসে পাসপোর্ট মিলবে।

    ৩. রেগুলার (১৫ কর্মদিবস): পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ আবেদন করলে ১৫ কর্মদিবসে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।

      নতুন ইস্যুর ক্ষেত্রে অতি জরুরি আবেদনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করে জমা দিতে হয়।

      হারানো পাসপোর্ট পুনরায় করতে কী কী লাগে

      পাসপোর্ট হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার তালিকায় অতিরিক্ত কয়েকটি কাগজ যুক্ত হয়।

      • নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে
      • জিডির মূল কপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে
      • পুরনো পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)
      • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

      পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হবে। হারানোর ঘটনায় দেরি না করে দ্রুত জিডি করা উচিত।

      সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

      ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে ছবির ক্ষেত্রে?

      সাধারণত ই-পাসপোর্ট ফরমে কোনো ছবি সংযোজন বা সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। তবে ৬ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে ৩R সাইজের ল্যাব প্রিন্ট ছবি (ধূসর ব্যাকগ্রাউন্ড) জমা দিতে হবে।

      কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে কি?

      না। ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন নেই। এটি পুরনো পদ্ধতি থেকে একটি বড় পরিবর্তন।

      শিশুর NID না থাকলে ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে?

      শিশুর NID না থাকলে পিতা বা মাতার NID নম্বর আবেদনপত্রে উল্লেখ করা আবশ্যক। সাথে শিশুর অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) দিতে হবে।

      সরকারি চাকরিজীবীদের ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে?

      সরকারি চাকরিজীবীদের NID-এর পাশাপাশি জিও বা এনওসি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেনশন বই বা PRL আদেশ জমা দিতে হবে। এই কাগজগুলো ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে আপলোড থাকতে হবে।

      কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য ই-পাসপোর্ট করতে কোথায় আবেদন করতে হয়?

      কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার উইং অথবা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

      উপসংহার

      ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তা বয়স, পেশা ও বৈবাহিক অবস্থাভেদে ভিন্ন। সঠিক কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখলে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না। এই আর্টিকেলে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা মেনে আবেদন করলে দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব।

      About The Author

      Leave a Reply