ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রির সময়সীমা বাড়লো

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি করার সময়সীমা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে ৩১ মার্চ ২০২৬ ছিল শেষ তারিখ, কিন্তু এখনো বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান তাদের হার্ড কপি রিটার্ন অনলাইনে জমা দেয়নি।

জুলাই ২০২৬ থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। তার আগে সব পুরনো কাগজের রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করা না হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রিফান্ড আবেদন করতে পারবে না এবং ক্লোজিং ব্যালেন্সও ফ্রিজ হয়ে যাবে। তাই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি কেন জরুরি?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি করা এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অতীতে কাগজে জমা দেওয়া সব মাসিক ভ্যাট রিটার্নের ডিজিটাল রেকর্ড না থাকলে ভবিষ্যতে কোনো সমন্বয় বা রিফান্ড দাবি করা সম্ভব হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রূপান্তর প্রক্রিয়া কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বাড়াবে। তাছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব হিসাবের নিরাপত্তার জন্যও ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি রাখা উচিত।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে নতুন সাব-মডিউল কী?

NBR ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মে “Hard Copy Return Entry” নামে একটি নতুন সাব-মডিউল যুক্ত করেছে। এই মডিউলটির মাধ্যমে করদাতারা তাদের এতদিনের কাগজে দাখিলকৃত সব মাসিক ভ্যাট রিটার্ন সহজেই অনলাইনে আপলোড করতে পারবেন।

এই সাব-মডিউলটির কার্যপ্রণালি সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি পরিপত্র জারি করেছে। উক্ত পরিপত্রে ই-ভ্যাট সিস্টেমে হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রির ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি না করলে কী হবে?

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি না করলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিচের সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হবে:

  • মে ২০২৬ মাসের ক্লোজিং ব্যালেন্স ফ্রিজ (Freeze) করা হবে।
  • ফ্রিজ হওয়া ব্যালেন্সের বিপরীতে কোনো সমন্বয় করা যাবে না।
  • ই-ভ্যাট সিস্টেমে সব রিটার্ন না থাকলে রিফান্ড আবেদন দাখিল করা যাবে না।
  • জুলাই ২০২৬ থেকে বাধ্যতামূলক অনলাইন ফাইলিংয়ে অংশ নেওয়া কঠিন হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যালেন্স ফ্রিজের ফলে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা পড়তে পারে। তাই সময়মতো ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রির ধাপসমূহ

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি করার প্রক্রিয়া সহজ। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো:

  1. NBR-এর ই-ভ্যাট পোর্টালে লগইন করুন।
  2. “Hard Copy Return Entry” সাব-মডিউলে প্রবেশ করুন।
  3. সংশ্লিষ্ট মাস ও বছর নির্বাচন করুন।
  4. হার্ড কপি রিটার্নের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  5. সাবমিট করুন এবং নিশ্চিতকরণ রসিদ সংগ্রহ করুন।

প্রতিটি মাসের রিটার্নের জন্য আলাদাভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে NBR-এর পরিপত্র অনুসরণ করুন।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রির সময়সীমা এবং রিফান্ড আবেদন

জুলাই ২০২৬ থেকে শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে রাখা বাধ্যতামূলক হওয়ার কারণে রিফান্ড আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তার পুরনো সব ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি না করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান কোনো রিফান্ড দাবি করতে পারবে না।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি সম্পন্ন থাকলেই কেবল রিফান্ড আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে রিফান্ড পেতে চায়, তাদের ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সব পুরনো রিটার্ন অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রির শেষ তারিখ কবে?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রির সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে ৩১ মার্চ ২০২৬ ছিল শেষ তারিখ। এই সময়ের মধ্যে সব হার্ড কপি রিটার্ন অনলাইনে জমা না দিলে প্রতিষ্ঠানের ক্লোজিং ব্যালেন্স ফ্রিজ করা হবে।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে রিটার্ন এন্ট্রি না করলে কি রিফান্ড পাওয়া যাবে?

না। ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি না করলে কোনো রিফান্ড আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না। NBR জানিয়েছে, শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে থাকা রিফান্ড আবেদনের পূর্বশর্ত। তাই রিফান্ড পেতে হলে সব পুরনো রিটার্ন আগে ই-ভ্যাট সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।

Hard Copy Return Entry সাব-মডিউল কোথায় পাওয়া যাবে?

NBR-এর ই-ভ্যাট পোর্টালে লগইন করলে “Hard Copy Return Entry” নামের সাব-মডিউলটি পাওয়া যাবে। এই মডিউলটি ব্যবহারের নিয়ম জানতে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা NBR পরিপত্রটি অনুসরণ করুন। প্রয়োজনে নিকটস্থ ভ্যাট কার্যালয় থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।

জুলাই ২০২৬ থেকে কি সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দিতে হবে?

হ্যাঁ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জুলাই ২০২৬ থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কারণেই ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি করে পুরনো রেকর্ড ডিজিটাল করা জরুরি। না হলে নতুন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়বে।

উপসংহার

ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি করার সুযোগ আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সব হার্ড কপি রিটার্ন অনলাইনে আপলোড না করলে ক্লোজিং ব্যালেন্স ফ্রিজ হবে এবং রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই উদ্যোগ কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করবে। তাই দেরি না করে এখনই ই-ভ্যাট সিস্টেমে পেপার রিটার্ন এন্ট্রি সম্পন্ন করুন এবং আপনার ব্যবসাকে ডিজিটাল কর ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত রাখুন।

About The Author

Leave a Reply