সরকার করজাল সম্প্রসারণ করতে প্রতিনিয়তই করদাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করছে। যারফলে অনেক প্রান্তিক ও ক্ষুদ্রকরদাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বছর শেষে রিটার্ন জমার পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু রিটার্ন পূরণ করতে গিয়ে বেশিরভাগ করদাতা সম্পদ ও ব্যয় বিবরণী প্রস্তুতে ভুল করেন এবং রিটার্ন জমা দিয়ে শেষে সমস্যায় পড়েন। তাই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র করদাতাদের সম্পদ ও ব্যয় বিবরণী জমার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী (IT-10B2016) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণী (IT-10BB2016) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তবে অর্থ আইন ২০২০ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ৮০ ধারা সংশোধনী করে শুধুমাত্র নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ হলেও তাদের জন্য আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী (IT-10B2016) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণী (IT-10BB2016) দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:

  • আয় বছরের শেষ তারিখে মোট পরিসম্পদ (gross wealth) এর পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকার অধিক হলে অথবা
  • আয় বছরের শেষ তারিখে মোটর গাড়ি (জীপ বা মাইক্রোবাসসহ) এর মালিকানা থাকলে; অথবা
  • আয় বছরে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোন গৃহ-সম্পত্তি বা এপার্টমেন্টের মালিক অথবা গৃহ-সম্পদ বা এপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করলে।

তবে রিটার্নে সাথে সম্পদ ও আয়-ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়া উত্তম। অনেক করদাতার বিপুল সম্পদ ও আয় থাকে। কিন্তু ফাঁকি দিতে রিটার্নে  মোট পরিসম্পদ  মূল্য এবং আয় কম দেখান। একসময় তিনি ফ্ল্যাট বা জমি কেনেন, অথবা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সে সময় রিটার্নে সম্পদের উৎসের বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে না বলে তিনি বেকায়দায় পড়েন। কোন করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রথম থেকে সম্পদ ও ব্যয় সঠিকভাবে দেখালে ভবিষ্যতে ঝামেলায় পড়বেন না।

 

Show CommentsClose Comments

Leave a comment