যেসকল পণ্যের ভ্যাটের হার বৃদ্ধি হয়েছে

বাংলাদেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরকারের সাম্প্রতিক ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনজীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রায় সব খাতেই এখন ভ্যাটের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। মোবাইল ফোন বিল, ইন্টারনেট চার্জ, পোশাক, খাবার, ওষুধসহ প্রায় ১০০টি পণ্য ও সেবার উপর ভ্যাট হার বৃদ্ধির নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

কেন বাড়ানো হলো ভ্যাট?

সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী এই ভ্যাট বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইএমএফের দেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। আর সেই লক্ষ্যে এই ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভ্যাট বাড়লে কি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে?

আমরা নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ লক্ষ্য করেছি যে, যেসকল পণ্য ও সেবার ভ্যাট হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেসকল পণ্য ও সেবার হ্রাসকৃত ভ্যাট হারকে (১৫% এর নিচে ভ্যাট হার) স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার (১৫% ভ্যাট হার) নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরবরাহকারীর জন্য উপকরণ কর রেয়াত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যার ফলে যদি সরবরাহকারী পূর্ব নির্ধারিত পনে বিক্রি করে তাহলে তার পণ্যক্রয় খরচ হ্রাস পাবে, সেক্ষেত্রে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। আর যদি পূর্বনির্ধারিত মুনাফা হার অনুসারে পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে তাহলে উক্ত পণ্য ও সেবার মূল্য হ্রাস পাবে।

কোন কোন পণ্যের ওপর ভ্যাট বেড়েছে?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী যেসকল পণ্য ও সেবার ভ্যাট হার বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেসকল পণ্য ও সেবার ভ্যাট হার পূর্বে কত ছিলো এখন কত করা হয়েছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

  • খাদ্য পণ্য:
    • (ভ্যাট ৫% থেকে ১৫%): পটেটো ফ্ল্যাকস, কর্ন, মেশিনে প্রস্তুত বিস্কুট, হাতে তৈরি বিস্কুট, আচার, চাটনি, টমেটো পেস্ট/কেচাপ/সস, আম, আনারস, পেয়ারা ও কলার পাল্প, তেঁতুলের পেস্ট;
    • (ভ্যাট ৭.৫% থেকে ১৫%): মিষ্টান্ন ভান্ডার।
  • শিল্প ও নির্মাণ সামগ্রী (ভ্যাট ৫% থেকে ১৫%): ট্রান্সফরমারের তেল, লুব্রিকেন্ট তেল, এলপি গ্যাস, আমদানি করা বাল্ক পেট্রোলিয়াম বিটুমিন, কঠিন শিলা, ফেরো-ম্যাঙ্গানিজ ও ফেরো-সিলিকো ম্যাঙ্গানিজ, ফেরো সিলিকন অ্যালয়, এইচআর কয়েল থেকে সিআর কয়েল, সিআর কয়েল থেকে জিপি শিট, জিআই তার, ৫ কেভিএ থেকে ২০০০ কেভিএ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, নারিকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি ম্যাট্রেস, বৈদ্যুতিক খুঁটি।  
  • দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য (ভ্যাট ৭.৫% থেকে ১৫%): কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়াল, সানগ্লাস, চশমার প্লাস্টিক ফ্রেম, চশমার মেটাল ফ্রেম, রিডিং গ্লাস।
  • সেবা খাত:
    • (ভ্যাট ৫% থেকে ১৫%): রেস্তোরাঁ, ইনভেন্টিং সংস্থা;
    • (ভ্যাট ৭.৫% থেকে ১৫%): নন-এসি হোটেল, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা (যদি সেবা হয়), নিজস্ব ব্র্যান্ড-সংবলিত তৈরি পোশাকের শোরুম/বিপণিবিতান (যদি শুধু বিক্রি না হয়ে সেবার অংশ থাকে);
    • (ভ্যাট ১০% থেকে ১৫%): মোটর গাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ, ডকইয়ার্ড, ছাপাখানা, চলচ্চিত্র স্টুডিও, সিনেমা হল, চলচ্চিত্র পরিবেশক, মেরামত ও সার্ভিসিং, করাতকল, খেলাধুলা আয়োজক, পরিবহন ঠিকাদার, বোর্ড সভায় জোগানকারী, টেইলারিং শপ ও টেইলার্স, ভবন রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা, সামাজিক ও খেলাধুলা-বিষয়ক ক্লাব।
  • অন্যান্য (ভ্যাট ৫% থেকে ১৫%): বিআরটিএ থেকে নেওয়া লেমিনেটেড ড্রাইভিং লাইসেন্স।

শেষকথা

ভ্যাটহার বৃদ্ধি মানেই পণ্যের দাম বৃদ্ধি নয়। যদি সরবরাহকারী তাদের মুনাফার হার পূর্বের ন্যায় বহাল রাখে সেক্ষেত্রে উপকরণ কর রেয়াত সুবিধার কারণে পণ্যের মূল্য হ্রাস পাবে। তবে এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার বিষয় জড়িত। নতুন ভ্যাট বৃদ্ধি সম্পর্কে আপনার কী মতামত। আমাদেরকে লিখে জানান।

About The Author

Leave a Reply