যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে এসেছে একটি সুখবর। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ (FEPD-1) সম্প্রতি একটি নতুন সার্কুলার জারি করেছে, যেখানে বার্ষিক ভ্রমণ কোটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে।
২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জারি করা FEPD-1 সার্কুলার নং ৩৩ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক এখন থেকে বছরে আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। যারা নিয়মিত বিদেশ যান, ব্যবসার কাজে বা পড়াশোনার প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ করেন, কিংবা পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই আপডেটটি জানা অত্যন্ত জরুরি। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই এই নতুন সার্কুলারে ঠিক কী কী পরিবর্তন এসেছে।
বিদেশ ভ্রমণে ডলার এন্ডোর্সমেন্ট কোটা কী পরিবর্তন এসেছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলারদের (Authorized Dealers) মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক আগে ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ১২,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এন্ডোর্স করাতে পারতেন। এই সীমা নির্ধারিত ছিল ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা FE সার্কুলার নং ৩৭ এর ৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী।
তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণ প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এই বার্ষিক কোটা বাড়িয়ে ১৮,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণে নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় একজন ভ্রমণকারী এখন ৬,০০০ ডলার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এন্ডোর্স করাতে পারবেন, যা বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
নাবালক ভ্রমণকারীদের জন্য ডলার এন্ডোর্সমেন্ট কোটার হিসাব
২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জারি করা FEPD-1 সার্কুলার নং ৩৩ সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১২ বছরের কম বয়সী নাবালকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ আগের নিয়ম অনুযায়ীই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, একজন নাবালক প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কোটার ৫০ শতাংশ পাবেন। যেহেতু প্রাপ্তবয়স্কদের কোটা এখন ১৮,০০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে, তাই নাবালকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ দাঁড়াবে ৯,০০০ ডলার পর্যন্ত।
এই নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যারা সন্তানসহ পরিবার নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, কারণ পুরো পরিবারের জন্য মোট এন্ডোর্সমেন্টের পরিমাণ হিসাব করার সময় এই অনুপাত মাথায় রাখা প্রয়োজন।
ক্যাশ ডলারে কত পাওয়া যাবে?
কোটা বাড়লেও ক্যাশ ডলারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা বহাল রাখা হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, মোট এন্ডোর্সমেন্ট যতই হোক না কেন, একজন ভ্রমণকারী নগদ মার্কিন ডলার নোট হিসেবে সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার (পাঁচ হাজার) পর্যন্ত নিতে পারবেন। বাকি অংশ ট্রাভেল কার্ড, ব্যাংক ড্রাফট বা অন্যান্য বৈধ মাধ্যমে বহন করতে হবে।
এই নিয়মটি মূলত অর্থ পাচার রোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বহাল রাখা হয়েছে।
ডলার এন্ডোর্সমেন্ট অন্যান্য নিয়মকানুন অপরিবর্তিত
সার্কুলারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশ ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় সংক্রান্ত অন্যান্য সব নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র বার্ষিক কোটার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, তবে এন্ডোর্সমেন্টের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা কিংবা অন্যান্য শর্তাবলীতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
কাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
এই নতুন নিয়ম বিশেষভাবে উপকৃত করবে:
- যারা নিয়মিত ব্যবসায়িক কাজে বিদেশ ভ্রমণ করেন
- বিদেশে সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করেন এমন অভিভাবকরা
- পরিবার নিয়ে বছরে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণে যান এমন ব্যক্তিরা
- চিকিৎসা বা সম্মেলনের কাজে ঘন ঘন বিদেশ যেতে হয় এমন পেশাজীবীরা
কোটা বৃদ্ধির ফলে এখন থেকে একই ক্যালেন্ডার বছরে বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বৈধভাবে এন্ডোর্স করিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো, যা বিদেশ ভ্রমণের আর্থিক পরিকল্পনাকে অনেকটাই সহজ করে দেবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক এখন বছরে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এন্ডোর্স করাতে পারবেন।
মোট এন্ডোর্সমেন্টের পরিমাণ যাই হোক, নগদ মার্কিন ডলার নোট হিসেবে সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার নেওয়া যাবে।
১২ বছরের কম বয়সী নাবালকদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের কোটার ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৯,০০০ ডলার প্রযোজ্য হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্ত বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। বার্ষিক ট্রাভেল কোটা ১২,০০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮,০০০ ডলার করার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত চাহিদা মেটানোর একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নগদ ডলারের সীমা এবং নাবালকদের কোটার বিষয়টি মাথায় রেখেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিত।
যারা শীঘ্রই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারা ব্যাংকে যাওয়ার আগে এই নতুন নিয়মকানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে গেলে এন্ডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।