রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত বিদ্যমান ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
কর কাঠামোতে প্রধান পরিবর্তনসমূহ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলপিজি খাতের কর কাঠামো সরলীকরণের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে:
- প্রত্যাহারকৃত কর: স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- কার্যকর কর: এখন থেকে শুধুমাত্র আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর থাকবে।
- লক্ষ্য: কর ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করা এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজতর করা।
ভোক্তা ও বাজার পর্যায়ে প্রভাব
দেশে বর্তমানে ৪০ শতাংশের বেশি পরিবার রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় এটিই প্রধান জ্বালানি। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে:
- বিপণন খরচ হ্রাস: কর কমানোর ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে বিপণন খরচ কমবে।
- দামের স্থিতিশীলতা: আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও ডলার সংকটের কারণে অতীতে ১২৫০ টাকার সিলিন্ডার ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির নজির দেখা গেছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত খুচরা বাজারে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া: এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এতে বিতরণ ব্যয় কমলে তার সুফল ধাপে ধাপে সাধারণ ক্রেতারা পাবেন।
গ্যাস চুরিতে কঠোর আইন: বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬
একই বৈঠকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অপব্যবহার রোধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর প্রধান দিকগুলো হলো:
- অপরাধের পরিধি বৃদ্ধি: অবৈধ সংযোগের পাশাপাশি ঠিকাদার বা অন্যের সহায়তায় বেআইনিভাবে গ্যাস ব্যবহারকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
- শাস্তি নির্ধারণ: মিটারযুক্ত ও নন-মিটার গ্রাহকদের জন্য অপরাধ ও দণ্ডের পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।
- দায়বদ্ধতা: ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিক এবং গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কর্মচারীদের অবহেলার জন্য শাস্তির আওতায় আনা হবে।
- সেবা সহজীকরণ: গ্রাহকদের লোড ম্যানেজমেন্ট বা মিটার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর বিতরণ কোম্পানির অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
