পড়াশোনার পাশাপাশি সঞ্চয় শুরু করতে চান? জানুন নতুন নিয়মে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
আপনি কি স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী? নিজের জমানো টাকা নিরাপদে রাখতে চাচ্ছেন কিন্তু ব্যাংকের বাড়তি চার্জের ভয়ে একাউন্ট খুলছেন না? আপনার দুশ্চিন্তার দিন শেষ!
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য “স্টুডেন্ট ব্যাংকিং” নামে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে । এখন আর শুধু স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নয়, ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নামমাত্র খরচে ব্যাংক একাউন্ট চালাতে পারবেন।
আসুন জেনে নিই, নতুন নিয়মে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার পুরো প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বিশেষ সুবিধাগুলো সম্পর্কে।
কারা এই স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবে?
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বয়সভেদে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই দুই গ্রুপের যেকোনো শিক্ষার্থী একাউন্ট খুলতে পারবেন:
- অনূর্ধ্ব ১৮ বছর: যারা স্কুল বা কলেজে পড়ে এবং বয়স ১৮ বছরের নিচে। এদের একাউন্ট পরিচালনা করবেন অভিভাবক ।
- ১৮ থেকে ২৫ বছর: কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থী। এরা সম্পূর্ণ নিজের নামে স্বাধীনভাবে একাউন্ট খুলতে ও চালাতে পারবেন ।
স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে কত টাকা ও কী কী কাগজপত্র লাগবে?
স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম এখন অনেক সহজ। মাত্র ১০০ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় এই একাউন্ট খোলা যায় ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
- শিক্ষার্থীর পরিচয়: জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে) ।
- ছাত্রত্বের প্রমাণ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড, প্রত্যয়নপত্র অথবা সর্বশেষ মাসের বেতন রশিদের কপি ।
- অভিভাবকের তথ্য (১৮ বছরের নিচে হলে): বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি। যদি এনআইডি না থাকে তবে পাসপোর্টের কপি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া যাবে ।
- ছবি: শিক্ষার্থী এবং নমিনির পাসপোর্ট সাইজের ছবি (ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী)।
স্টুডেন্ট একাউন্টের লোভনীয় সুবিধাসমূহ
সাধারণ সেভিংস একাউন্টের চেয়ে স্টুডেন্ট একাউন্টের সুবিধা অনেক বেশি।
- সর্বোচ্চ মুনাফা: ব্যাংকের সাধারণ সেভিংস একাউন্টের তুলনায় স্টুডেন্ট একাউন্টে সাধারণত সর্বোচ্চ হারে মুনাফা বা সুদ দেওয়া হয় ।
- ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড: সব বয়সী শিক্ষার্থীরা এটিএম/ডেবিট কার্ড পাবেন। তবে ১৮-২৫ বছর বয়সীরা প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ডও নিতে পারবেন ।
- চেকবুক সুবিধা: ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা চেকবুক ব্যবহার করতে পারবেন (১৮ বছরের নিচে চেকবুক দেওয়া হয় না) ।
- ফ্রিল্যান্সিং আয়: তরুণ শিক্ষার্থীরা (১৮-২৫ বছর) তাদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ পথে এই একাউন্টে আনতে পারবেন ।
- শিক্ষা বীমা: শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য এই একাউন্টের সাথে শিক্ষা বীমা সুবিধা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে ।
স্টুডেন্ট একাউন্টের চার্জ বা খরচ কত?
স্টুডেন্ট একাউন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর নগণ্য খরচ।
- ১৮ বছরের নিচে: এদের জন্য এটিএম কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এসএমএস অ্যালার্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য কোনো সার্ভিস চার্জ নেই (শুধুমাত্র সরকারি ফি ছাড়া) ।
- ১৮-২৫ বছর: এদের ক্ষেত্রে কার্ড, চেকবুক বা অন্যান্য সেবার ফি-তে সাধারণ চার্জের ওপর ৫০% ছাড় দেওয়া হবে ।
লেনদেনের সীমা (Transaction Limit)
- ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে এটিএম বা অনলাইনে টাকা তোলার সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা। তবে অভিভাবক আবেদন করলে তা ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো যাবে ।
- ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে লেনদেনের সীমা তাদের আয়ের উৎস বা কেওয়াইসি (KYC) অনুযায়ী ব্যাংক নির্ধারণ করবে ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: আমার বয়স ২৫ পার হয়ে গেলে স্টুডেন্ট একাউন্টটির কী হবে?
উত্তর: বয়স ২৫ পূর্ণ হলে আপনার সম্মতিক্রমে একাউন্টটি সাধারণ সেভিংস একাউন্টে রূপান্তর করা হবে এবং তখন স্বাভাবিক চার্জ প্রযোজ্য হবে ।
প্রশ্ন: আমি কি এই স্টুডেন্ট একাউন্ট থেকে ডিপিএস (DPS) খুলতে পারব?
উত্তর: হ্যাঁ, স্টুডেন্ট একাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করে যেকোনো ডিপিএস স্কিম খোলা যাবে ।
প্রশ্ন: আমি ফ্রিল্যান্সিং করি, আমি কি এই স্টুডেন্ট একাউন্টে ডলার আনতে পারব?
উত্তর: হ্যাঁ, ১৮-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বৈধ ফ্রিল্যান্সিং আয় এই একাউন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন ।
প্রশ্ন: বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট একাউন্ট থেকে কি সুবিধা পাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, পড়াশোনার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘স্টুডেন্ট ফাইল’ খোলার সময় আপনারা অগ্রাধিকার পাবেন ।
আজই শুরু হোক আপনার সঞ্চয়
হাতে টাকা থাকা মানেই খরচ করে ফেলা নয়। ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে আজই আপনার নিকটস্থ ব্যাংকে যান এবং মাত্র ১০০ টাকায় একটি স্টুডেন্ট একাউন্ট চালু করুন। মনে রাখবেন, আজকের ছোট সঞ্চয়ই আপনার আগামী দিনের বড় শক্তি।
