খতিয়ানে নিজের নাম যাচাই করার সহজ নিয়ম ২০২৬

জমি কেনার পর বা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার পর একটি প্রশ্ন সবার আগে মনে আসে। খতিয়ানে নিজের নাম উঠেছে তো? এই প্রশ্নের উত্তর এখন অফিসে না গিয়েই পাওয়া যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই খতিয়ান অনুসন্ধান করা সম্ভব।

অনেকে গুগলে লেখেন খতিয়ান কিভাবে চেক করব বা খতিয়ান নাম্বার দিয়ে জমির মালিকের নাম কীভাবে বের করা যায়। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে কীভাবে অনলাইনে খতিয়ান চেক করবেন, খতিয়ান কত প্রকার, খতিয়ান ডাউনলোড করার নিয়ম এবং নাম না পাওয়া গেলে করণীয়। সম্পূর্ণ লেখাটি পড়লে জমির রেকর্ড যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

খতিয়ান কি

খতিয়ান কি, প্রথমেই এটা বোঝা জরুরি। খতিয়ান হলো সরকারি ভূমি রেকর্ডের একটি দলিল, যেখানে মালিক বা মালিকদের নাম, মৌজার নাম ও নম্বর, জমির দাগ নম্বর, দাগভিত্তিক জমির পরিমাণ এবং মালিকের প্রাপ্য অংশের তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।

শুধু জমির দলিল হাতে থাকলেই খতিয়ানে নাম ওঠে না। জমি ক্রয়, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনোভাবে মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ড হালনাগাদের জন্য নামজারি বা মিউটেশন করতে হয়। তাই দলিল আর খতিয়ান দুটোকে এক করে দেখা ঠিক নয়।

খতিয়ান কত প্রকার ও কি কি

খতিয়ান কত প্রকার ও কি কি, এই প্রশ্নও অনেকের মনে থাকে। সময়ের সঙ্গে জরিপভেদে খতিয়ানের ধরন বদলায়। সাধারণত নিচের ধরনগুলো প্রচলিত:

খতিয়ান

মৌজা ভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্ত্তত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। এতে ভূমধ্যাধিকারীর নাম ও প্রজার নাম, জমির দাগ নং, পরিমাণ, প্রকৃতি, খাজনার হার ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে সিএস, এসএ এবং আরএস উল্লেখযোগ্য। ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “থতিয়ান” বলে। খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক।

সি এস খতিয়ান

১৯১০-২০ সনের মধ্যে সরকারি আমিনগণ প্রতিটি ভূমিখণ্ড পরিমাপ করে উহার আয়তন, অবস্থান ও ব্যবহারের প্রকৃতি নির্দেশক মৌজা নকশা এবং প্রতিটি ভূমিখন্ডের মালিক দখলকারের বিররণ সংবলিত যে খতিয়ান তৈরি করেন সিএস খতিয়ান নামে পরিচিত।

এস এ খতিয়ান

১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর সরকার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। তৎপর সরকারি জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে মাঠে না গিয়ে সিএস খতিয়ান সংশোধন করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করেন তা এসএ খতিয়ান নামে পরিচিত। কোনো অঞ্চলে এ খতিয়ান আর এস খতিয়ান নামেও পরিচিত। বাংলা ১৩৬২ সালে এই খতিয়ান প্রস্তুত হয় বলে বেশির ভাগ মানুষের কাছে এসএ খতিয়ান ৬২র
খতিয়ান নামেও পরিচিত।

আর এস খতিয়ান

একবার জরিপ হওয়ার পর তাতে উল্লেখিত ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে যে জরিপ করা হয় তা আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। দেখা যায় যে, এসএ জরিপের আলোকে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান প্রস্তুতের সময় জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে তদন্ত করেনি। তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ভূমি মাপ-ঝোঁক করে পুনরায় খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই খতিয়ান আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। সারাদেশে এখন পর্যন্ত তা সমাপ্ত না হলেও অনেক জেলাতেই আরএস খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারি আমিনরা মাঠে গিয়ে সরেজমিনে জমি মাপামাপি করে এই খতিয়ান প্রস্তুত করেন বলে তাতে ভুলত্রুটি কম লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এই খতিয়ান বি এস খতিয়ান নামেও পরিচিত।

বি এস খতিয়ান

সর্ব শেষ এই জরিপ ১৯৯০ সালে পরিচালিত হয়। ঢাকা অঞ্চলে মহানগর জরিপ হিসাবেও পরিচিত।

 নামজারি অনুমোদনের পর যে খতিয়ান তৈরি হয়, সেটিই সর্বশেষ ও সবচেয়ে হালনাগাদ রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়। তাই পুরোনো জরিপের খতিয়ান দেখার পাশাপাশি সর্বশেষ নামজারি খতিয়ানও মিলিয়ে দেখা জরুরি।

খতিয়ান অনুসন্ধান করার ধাপ

খতিয়ান অনুসন্ধান করতে হলে প্রথমে সরকারি ভূমি সেবা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নাগরিক সেবায় মালিকানা বা স্বত্বের ইতিবৃত্ত এবং দাগের ইতিবৃত্ত অনলাইনে পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।

খোঁজার আগে জমির অবস্থানসংক্রান্ত কিছু তথ্য হাতে রাখা ভালো। বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান নং বা দাগ নম্বর আগে থেকে জানা থাকলে অনুসন্ধান অনেক সহজ হয়ে যায়।

অনুসন্ধানের ধাপগুলো এভাবে সাজানো যায়:

১. সরকারি ভূমি সেবা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করুন।

২. পেজে সার্ভে খতিয়ান অনুসন্ধান এ প্রথমে বিভাগ, তারপর জেলা এবং উপজেলা সিলেক্ট করুন। এরপরে খতিয়ানের ধরণ সিলেক্ট করতে হবে। আগেই বলেছি কয়েকধরনের খতিয়ান আছে। আপনার জমির জরিপ ধরণ অনুযায়ী বিএস, সিএস, বিআরএস, আরএস, এসএ, পেটি, দিয়ারা; ইগুলোর ভিতর যেইটি হবে সেইটি সিলেক্ট করে নিন।

৩. খতিয়ানের ধরণ সিলেক্ট করলে পরের লাইনে উক্ত খতিয়ানে মৌজার নামসমূহ আসবে। এখান থেকে আপনার জমি যেই মৌজায় সেই মৌজা সিলেক্ট করতে হবে।

৪. আপনার জমির মৌজার সিলেক্ট করলেই আপনি উক্ত মৌজায় সকল জমির খতিয়ান সমূহ দেখতে পাবেন। যদি আপনার জমির খতিয়ান নং জানা থাকে তাহলে খতিয়ানে তালিকার নিচে সার্চ অপশনে খতিয়ান নম্বর দিলেই আপনার নামেই খতিয়ানটি চলে আসবে। আর যদি খতিয়ান নম্বর না জানা থাকে তবে দাগ নম্বর দিয়েই আপনি খতিয়ানটি খুঁজে পেতে পারেন। এরজন্য খতিয়ান তালিকার নিচে অধিকতর অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করলে, দাগ নম্বর দিয়ে খোঁজার একটা অপশন আসবে, সেখানে আপনি দাগ নং দিয়ে কাংখিত খতিয়ানটি খুঁজে পেতে পারেন। আর যদি খতিয়ান নং অথবা দাগ নং কোনটায় আপনার জানা না থাকে তাহলে ধৈর্য্য ধরে খতিয়ানের তালিকা থেকে আপনার কাংখিত খতিয়ানটি খুঁজে বের করতে হবে।

৫. আপনার খতিয়ানটি খুঁজে পেলে উক্ত খতিয়ানের উপর ডবল ক্লিক করুন। তাহলে আপনি খতিয়ানের সম্পূর্ন তথ্য দেখতে পাবেন। বিস্তারিততে উক্ত খতিয়ানের মালিকের নাম ও দাগ নং সমূহ দেখা যাবে। পাওয়া রেকর্ডে মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

খতিয়ান কিভাবে চেক করব

খতিয়ান কিভাবে চেক করব, এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের পরের ধাপে পাওয়া যায়। রেকর্ড খুঁজে পাওয়ার পর শুধু নিজের নাম দেখলেই যাচাই শেষ হয় না। মিলিয়ে দেখতে হবে:

  • মালিক বা মালিকদের নাম
  • পিতা বা স্বামীর নাম
  • মৌজার নাম ও নম্বর
  • দাগ নম্বর
  • জমির পরিমাণ
  • নিজের প্রাপ্য অংশ

একই ব্যক্তির নাম অন্য কোনো জমির রেকর্ডেও থাকতে পারে। তাই শুধু নামের মিল দেখে নিশ্চিত হওয়া ঠিক নয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় রেকর্ডীয় মালিকের নামের সঙ্গে পিতা বা স্বামীর নাম এবং পূর্ণ ঠিকানার তথ্য ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

খতিয়ান নাম্বার দিয়ে জমির মালিকের নাম বের করার নিয়ম

অনেকে শুধু খতিয়ান নম্বর হাতে নিয়েই অনুসন্ধান করতে চান। খতিয়ান নাম্বার দিয়ে জমির মালিকের নাম বের করতে হলে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচনের পর সার্চ বক্সে খতিয়ান নম্বর বসিয়ে অনুসন্ধান করতে হয়। রেকর্ড এলে সেখানে মালিকের নাম, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ একসাথে দেখা যায়।

খতিয়ান নম্বর না জানা থাকলে দাগ নম্বর দিয়েও একই রেকর্ড খুঁজে বের করা যায়। দুটো পথই একই সরকারি ভূমি রেকর্ড ডেটাবেজ থেকে ফলাফল দেখায়।

খতিয়ান থেকে জমির হিস্যা বের করার নিয়ম

পারিবারিক সম্পত্তিতে একাধিক মালিক থাকলে নিজের অংশ কতটুকু, তা জানা জরুরি। খতিয়ান থেকে জমির হিস্যা বের করার নিয়ম মূলত রেকর্ডের “মালিকের অংশ” কলামেই লেখা থাকে। প্রতিটি মালিকের নামের পাশে তার প্রাপ্য অংশের পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই অংশ একাধিক ওয়ারিশের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। তাই খতিয়ানে নিজের নাম পাওয়ার পর অংশের সংখ্যাটি অবশ্যই মিলিয়ে দেখা উচিত। কোনো অসঙ্গতি মনে হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।

খতিয়ানে নাম না থাকলে করণীয়

জমি কেনার পরও খতিয়ানে পুরোনো মালিকের নাম দেখা গেলে ধরে নেওয়া যাবে না যে নতুন মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে গেছে। মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ড হালনাগাদের জন্য নামজারি বা মিউটেশনের ব্যবস্থা আছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার বা ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্নভাবে মালিকানা পরিবর্তনের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে মিউটেশন আবেদন করতে হয়। নামজারি অনুমোদনের পর নতুন মিউটেশন খতিয়ান তৈরি হয়। অনলাইনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয় এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের সুযোগও দেওয়া হয়।

খতিয়ান ডাউনলোড করার নিয়ম

নামজারি অনুমোদনের পর খতিয়ান ডাউনলোড করার ব্যবস্থাও অনলাইনে রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ান অনলাইনে পাওয়া যায়। ডিআরসি ফি অনলাইনে পরিশোধ করার পর আবেদন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে খতিয়ান ও ডিআরসির প্রিন্ট কপি নেওয়া সম্ভব।

এ ধরনের অনলাইন খতিয়ান ও ডিআরসি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বলেও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় উল্লেখ আছে। তাই অফিসে না গিয়েও সম্পূর্ণ বৈধ কপি হাতে পাওয়া যায়।

খতিয়ানের ফি কত

খতিয়ান সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ফি আলাদা আলাদাভাবে নির্ধারিত। নিচের টেবিলে একনজরে দেখে নিন।

সেবানির্ধারিত ফি
খতিয়ানের অনলাইন কপি১০০ টাকা
সার্টিফায়েড খতিয়ানের আবেদন১০০ টাকা (ডাকযোগে হলে অতিরিক্ত ডাক মাশুল)
খতিয়ান সংশোধনের আবেদন২০ টাকা
মৌজা ম্যাপ৫২০ টাকা (ডাকযোগে ১১০ টাকা অতিরিক্ত)

রেকর্ডে ভুল থাকলে কী করবেন

খতিয়ানে নিজের নাম থাকলেও দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ বা মালিকানার অংশে কোনো অসঙ্গতি থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি সেবার মাধ্যমে আবেদন করা যায়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নাগরিক সুবিধার তালিকায় খতিয়ান সংশোধন, নামজারি, জমাভাগ, জমা একত্রিকরণ এবং ভূমির মালিকানার ইতিবৃত্ত অনলাইনে পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

অনলাইনে তথ্য না মিললে কী করবেন

সব জমির তথ্য সবসময় একইভাবে অনলাইনে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে পুরোনো রেকর্ড, জরিপভেদে খতিয়ানের পরিবর্তন বা রেকর্ড হালনাগাদের বিষয় থাকলে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে রেকর্ড যাচাই করাই নিরাপদ। ভূমি-সংক্রান্ত সেবার জন্য সরকারি ১৬১২২ কলসেন্টারেও যোগাযোগের সুযোগ আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে দলিল, নামজারি খতিয়ান, দাগ ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে দেখা।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: অনলাইনে খতিয়ানে নিজের নাম দেখা যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ। সরকারি ভূমি সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা ও রেকর্ড-সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে যাচাই করার সুবিধা রয়েছে।

প্রশ্ন: খতিয়ান অনুসন্ধান করতে কী তথ্য লাগতে পারে?
উত্তর: জমির অবস্থান অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্যের পাশাপাশি খতিয়ান নং বা দাগ নম্বর জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়।

প্রশ্ন: দলিল থাকলেও খতিয়ানে নাম না থাকলে কী করবেন?
উত্তর: মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ড হালনাগাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নামজারি বা মিউটেশন করতে হয়।

প্রশ্ন: খতিয়ান ডাউনলোড করতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী অনলাইন খতিয়ানের জন্য ১০০ টাকা ফি রয়েছে।

প্রশ্ন: খতিয়ানে তথ্য ভুল থাকলে কী করা যায়?
উত্তর: প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ভূমি সেবার মাধ্যমে খতিয়ান সংশোধনের আবেদন করা যায়। নির্ধারিত খতিয়ান সংশোধন আবেদন ফি ২০ টাকা।

শেষকথা

খতিয়ান অনুসন্ধান এখন আর কঠিন কোনো কাজ নয়। সরকারি ভূমি সেবা প্ল্যাটফর্মে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা ও খতিয়ান নং দিয়ে ঘরে বসেই রেকর্ড দেখা যায়। শুধু নাম খুঁজে পাওয়াই যথেষ্ট নয়, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও নিজের অংশও মিলিয়ে দেখা জরুরি।

খতিয়ানে নাম না পাওয়া গেলে নামজারি বা মিউটেশনের মাধ্যমে রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে। যেকোনো সন্দেহে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন অথবা ১৬১২২ কলসেন্টারে ফোন করুন। লেখাটি কাজে লাগলে জমি নিয়ে কাজ করা পরিচিতজনের সঙ্গে শেয়ার করুন।

About The Author

Leave a Reply