বাংলাদেশ আয়কর আইন ২০২৩-এর ২(২২) ধারা অনুযায়ী, “করদাতা” বলতে শুধু তারাই নয় যারা আয়কর দেন, বরং আরও অনেককেই বোঝায়। নিচে সহজ ভাষায় এর সংজ্ঞাটি ব্যাখ্যা করা হলো:
করদাতা বা assessee মূলত সেই ব্যক্তি যিনি করারোপযোগ্য আয় উপার্জন করেন। এর মানে হলো, তার এমন আয় আছে যার উপর সরকার কর ধার্য করতে পারে। তবে, এর বাইরেও আরও কিছু ব্যক্তি আছেন যারা এই আইনের আওতায় করদাতা হিসেবে গণ্য হন:
- যারা কর পরিশোধ করতে বাধ্য: কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন অনুযায়ী কোনো প্রকার কর বা অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকেন, তাহলে তিনি করদাতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
- যাদের আয় অন্যের সাথে যৌথভাবে হিসাব করা হয়: যদি কোনো ব্যক্তির আয় অন্য কোনো ব্যক্তির আয়ের সাথে মিলিয়ে হিসাব করা হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিও করদাতা হিসেবে গণ্য হবেন।
- যাদের পাওনা নির্ধারণের জন্য কার্যক্রম চলছে: যদি কারো পাওনা (যেমন ট্যাক্স রিফান্ড) নির্ধারণের জন্য এই আইনের অধীনে কোনো প্রক্রিয়া চলমান থাকে, তিনিও করদাতা।
- যাদের ন্যূনতম কর দিতে হয়: যাদের আয় কম হলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ধারা ১৬৩ অনুসারে (ন্যূনতম) কর পরিশোধ করতে হয়, তারাও এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
- যারা রিটার্ন বা তথ্য দিতে বাধ্য: যে সকল ব্যক্তি এই আইনের অধীনে কোনো প্রকার রিটার্ন, দলিল, বিবরণী বা তথ্য প্রদান করতে বাধ্য, তারাও করদাতা।
- যারা স্বেচ্ছায় রিটার্ন দেন: কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় কর পরিশোধ করতে চান এবং রিটার্ন দাখিল করেন, তিনিও করদাতা হিসেবে গণ্য হবেন।
- যাদের খেলাপি করদাতা হিসেবে গণ্য করা হয়: এই আইনের কোনো বিধানের অধীনে যদি কাউকে খেলাপি করদাতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তিনিও করদাতা।
- যাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: যদি কারো বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তিনিও করদাতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সংক্ষেপে, করদাতা বলতে শুধু তারাই নন যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, বরং এমন যে কেউ যিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আয়কর আইনের সাথে কোনোভাবে জড়িত, তিনিই এই আইনের অধীনে করদাতা হিসেবে গণ্য হবেন।
