জন্মের পরেই মিলবে ডিজিটাল আইডি ডিজিটাল ওয়ালেট

জন্মের পরপরই প্রতিটি শিশুর জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ডিজিটাল আইডি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমান সরকার দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য ও আধুনিক করতে একটি যুগোপযোগী টেলিযোগাযোগ নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। চলুন জেনে নিই বাংলাদেশের নতুন টেলিকম পলিসির চমকপ্রদ সব তথ্য।

ডিজিটাল আইডি এবং ডিজিটাল ওয়ালেট

নতুন নীতির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট ধারণা ।সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা জানিয়েছেন, জন্মের পর থেকেই একটি শিশুর ডিজিটাল আইডি চালু হবে । এই আইডিটি সরাসরি যুক্ত থাকবে একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে । এর ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ, আর্থিক লেনদেন এবং পরিচয় যাচাইকরণ হবে আরও দ্রুত ও নিরাপদ।

ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এবং সুপারফাস্ট ইন্টারনেট স্পিড

আমরা সবাই দ্রুত গতির ইন্টারনেট চাই। সরকারের নতুন লক্ষ্য হলো দেশের ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর আওতায় নিয়ে আসা । শুধু তাই নয়, ব্যবহারকারীদের জন্য ১০০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট স্পিড নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার একটি বড় অংশ । এর ফলে বাফারিং ছাড়াই ভিডিও দেখা, দ্রুত ফাইল ডাউনলোড এবং নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন যোগাযোগ সম্ভব হবে।

সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের দাম এবং সাধারণের নাগালে প্রযুক্তি

প্রযুক্তিকে সবার হাতে পৌঁছে দিতে স্মার্টফোনের দাম কমানো অত্যন্ত জরুরি। সরকার এই বিষয়টি মাথায় রেখে স্মার্টফোনের দাম আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করছে । এর ফলে কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ রিকশাচালকও আধুনিক ডিভাইস ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবেন 

মোবাইল রিচার্জে কর কমানোর সুখবর

বর্তমানে আমরা ১০০ টাকা রিচার্জ করলে বড় একটি অংশ ট্যাক্স হিসেবে কেটে নেওয়া হয় । নতুন নীতিমালায় বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোবাইল রিচার্জে কর কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। লক্ষ্য হলো, গ্রাহক যেন ১০০ টাকা রিচার্জ করলে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ টাকার সেবা উপভোগ করতে পারেন । এটি সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশাল স্বস্তির খবর।

এক নজরে সরকারের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্যগুলো

  • ডিজিটাল আইডি: জন্মের পর থেকেই শিশুর জন্য ডিজিটাল আইডি ও ওয়ালেট প্রদান ।
  • স্মার্টফোনের দাম: সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় স্মার্টফোন নিশ্চিতকরণ ।
  • ইন্টারনেট স্পিড: ১০০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট এবং ৮০ শতাংশ মানুষের জন্য ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সুবিধা সম্প্রসারণ ।
  • মোবাইল রিচার্জে কর: ১০০ টাকা রিচার্জে গ্রাহক যেন ৮০ থেকে ৯০ টাকার সেবা পান সেই ব্যবস্থা গ্রহণ ।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশে নতুন টেলিকম পলিসি বাস্তবায়িত হলে তা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। ডিজিটাল আইডি থেকে শুরু করে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট, সব মিলিয়ে একটি সত্যিকারের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। বিটিআরসি এবং সরকারের এই উদ্যোগগুলো নিয়ে আপনাদের মতামত কী? নিচে কমেন্ট করে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

About The Author

Leave a Reply