ছুটি! একজন চাকরিজীবির জন্য ছু্টি মহা আরাধ্য বিষয়। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও একজন চাকরিজীবি কয়েকধরনের ছুটি ভোগ করতে পারেন। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ছুটির প্রকারভেদ ও ছুটির মেয়াদ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলো

১. সাপ্তাহিক ছুটি
২. নৈমিত্তিক ছুটি
৩. পীড়া ছুটি (অসুস্থতা ছুটি)
৪. বাৎসরিক ছুটি
৫. উৎসব ছুটি
৬. মাতৃত্বকালীন ছুটি
৭. ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি

শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা কোন ছুটি কতদিন ভোগ করবেন, সেই হিসাব নিচের টেবিলে উল্লেখ করা হলো:

ক্রমিক নংছুটির ধরণছুটির হিসাব
সাপ্তাহিক ছুটি কলকারখানা ও শিল্পের ক্ষেত্রে – সপ্তাহে ১দিন
দোকান ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে – সপ্তাহে দেড় দিন
সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে – সপ্তাহে অবিচিছন্ন ২৪ ঘন্টার ১দিন
নৈমিত্তিক ছুটি ১০ দিন
তবে কোন কর্মী বছরের মাঝামাঝি সময়ে যোগদান করলে তিনি আনুপাতিক হারে নৈমেত্তিক ছুটি পাবেন।
পীড়া ছুটি
(অসুস্থতা ছুটি)
১৪ দিন (সংবাদপত্র শ্রমিক ব্যতীত)
সংবাদপত্র শ্রমিক তাদের চাকুরীর মেয়াদ অনুযায়ী অন্যুন এক-অষ্টাদশ অংশ সময় অর্ধমজুরীতে পীড়া ছুটি পাবেন।
বাৎসরিক ছুটি দোকান, বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা, সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে- প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১দিন
চা বাগানের ক্ষেত্রে- প্রতি ২২ দিন কাজের জন্য ১দিন
সংবাদপত্র শ্রমিকের ক্ষেত্রে- প্রতি ১১ দিন কাজের জন্য ১দিন
কোন শ্রমিক চাহিলে তাহার অব্যয়িত অর্জিত ছুটির বিপরীতে নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, বৎসরান্তে অর্জিত ছুটির অর্ধেকের অধিক নগদায়ন করা যাবে না এবং এইরূপ নগদায়ন বৎসরে মাত্র একবার করা যাবে।
উৎসব ছুটি ১১ দিন
মাতৃত্বকালীন ছুটি একজন নারী শ্রমিক সন্তান প্রসবের পূর্বে ৮ সপ্তাহ এবং সন্তান প্রসবের পরে ৮ সপ্তাহ মোট ১৬ সপ্তাহ পূর্ণ বেতনে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন
ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি কোন শ্রমিককে তাহার প্রাপ্য সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান সম্ভব না হলে উক্ত শ্রমিককে তাহার উক্তরূপ ছুটি প্রাপ্য হবার পরবর্তী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান করতে হবে।
  • তবে শর্ত থাকে যে, নৈমিত্তিক ছুটি অথবা পীড়া ছুটির মধ্যে কোন সাপ্তাহিক বা উৎসব ছুটি পড়লে উক্ত ছুটি মূল ছুটির অন্তর্ভুক্ত হবে।
  • কোন শ্রমিককে কোন উৎসব ছুটির দিনে কাজ করতে বলা যেতে পারে, তবে ইহার জন্য তাকে ১ দিনের বিকল্প ছুটি এবং ২ দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি প্রদান করতে হবে।
Show CommentsClose Comments

Leave a comment