আয়কর পরিশোধ প্রতিটি নাগরিকের আইনি দায়িত্ব হলেও, আয়কর আইনে কিছু নির্দিষ্ট আয়ের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি সুবিধা রাখা হয়েছে। অনেকেই জানেন না, তাদের কিছু আয় হয়তো সম্পূর্ণ করমুক্ত অথবা মোট আয় থেকে বাদ যাওয়ার যোগ্য।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৬, ৭৭ ও ৭৮ এবং ষষ্ঠ তফসিলে কর অব্যাহতি সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান দেওয়া আছে। সরকার নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তি বা আয়ের উপর গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর অব্যাহতি দিতে পারে। তবে শর্ত সাপেক্ষে এই সুবিধা বাতিলও করা যায়।
এই লেখায় আমরা জানব, কর অব্যাহতি আসলে কী, কীভাবে এটি কাজ করে, ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ ও অংশ ২ অনুযায়ী কোন কোন আয় কর অব্যাহতির আওতায় পড়ে এবং রিটার্ন দাখিলের সময় এই সুবিধা পেতে কী কী শর্ত মানতে হয়। ফ্রিল্যান্সার, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা বিনিয়োগকারী, সবার জন্যই এই তথ্য কাজে লাগবে।
কর অব্যাহতি বলতে কী বুঝায়?
কর অব্যাহতি মানে হলো, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা আয়ের উপর সরকার আইনগতভাবে কর আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৬(১) অনুযায়ী, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো শ্রেণির ব্যক্তি বা আয়কে কর অব্যাহতি দিতে পারে।
এর মানে এই নয় যে যে কেউ ইচ্ছামতো কর অব্যাহতি দাবি করতে পারবে। নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো মেনেই এই সুবিধা কার্যকর হয়। এছাড়া, আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে অন্য কোনো আইন বা দলিলের মাধ্যমে দেওয়া কর অব্যাহতিও ধারা ৭৬(১) এর অধীনে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কার্যকর হবে না।
কর অব্যাহতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী
আয়কর আইন অনুযায়ী কর অব্যাহতি পেতে হলে কিছু শর্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ধারা ৭৬-এর বাকি উপ-ধারাগুলোতে এই শর্তগুলো স্পষ্টভাবে বলা আছে:
- সরকার চাইলে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যেকোনো কর অব্যাহতি বাতিল করতে পারে।
- আইনের অধীনে কোনো কর অব্যাহতি ভূতাপেক্ষভাবে (পূর্ববর্তী সময়ের জন্য) প্রদান করা যাবে না।
- ধারা ১৬৬ ও ধারা ১৭১ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে কর অব্যাহতি পাওয়া যাবে না। তবে ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭) ও (৩৫) এবং চাকরি হতে আয় গণনায় কর অব্যাহতি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
- কোনো ব্যক্তি কোনো একটি উৎসের আয়ের বিপরীতে আইন দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হলে, উক্ত উৎসের আয়ের বিপরীতে পুনরায় অন্য কোনোভাবে বা মেয়াদে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হবে না। এমনকি কোনো ব্যক্তি একীভূতকরণ, ডিমার্জার ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে পুনর্গঠিত হলেও এই সুবিধা পুনরায় পাওয়া যাবে না।
- কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো উৎসের আয় বা ব্যক্তির আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, ধারা ৫৫ এর অধীনে অননুমোদিত কোনো ব্যয়ের উপর ধারা ৫৬ এর বিধান অনুযায়ী কর প্রদেয় হবে।
মোট আয় হইতে বাদ যাওয়া আয়সমূহ (ধারা ৭৭)
আয়কর আইনে কর অব্যাহতি ছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো “মোট আয় হইতে বাদ”। ধারা ৭৭(১) অনুযায়ী ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১-এ উল্লিখিত আয় করদাতার মোট আয় পরিগণনায় অন্তর্ভুক্ত হয় না, তবে আয়বর্ষের তহবিলের উৎস নির্ণয়ে তা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়:
- রিটার্নের মোট আয় হিসাবে সংশ্লিষ্ট কলামে যথাযথভাবে দেখাতে হবে।
- আয়ের উৎস ও পরিমাণ রিটার্নের সাথে বিস্তারিতভাবে দাখিল করতে হবে।
ধারা ৭৭(২) অনুযায়ী, ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ২ এর অধীনে প্রদত্ত অনুদানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে মোট আয় হতে বাদ দেওয়া হয়:
- উক্ত অনুদান রিটার্ন বা বিবরণ বা রিটার্নের সাথে সংযুক্ত দলিলাদিতে প্রতিফলিত হতে হবে।
- ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ২ এর অধীনে প্রদত্ত অনুদানের মোট পরিমাণ ব্যক্তির অনুদান পূর্ববর্তী প্রদর্শিত মোট আয়ের ১০ শতাংশের বেশি হবে না।
- রিটার্নের সাথে আয়ের উৎস ও পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করতে হবে।
কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়ের সম্পূর্ণ তালিকা
আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১-এ ৩৭টি দফায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে কোন কোন আয় মোট আয় পরিগণনা হইতে বাদ যাবে। নিচে প্রতিটি দফা ক্রমানুসারে তুলে ধরা হলো:
(১) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন বা সরকার কর্তৃক স্বাক্ষরিত কোনো চুক্তির অধীনে আয়কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো আন্ত-সরকারি সংস্থা বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা উহার কোনো কর্মচারীর আয়।
(২) নিম্নবর্ণিত যেকোনো আয়:
- কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, এনভয়, মিনিস্টার, চার্জ দ্য এফেয়ার্স, ভাইস কনসাল, কাউন্সিলর, কনসাল দ্য ক্যারিয়ার, সেক্রেটারি, দূতাবাসের উপদেষ্টা বা অ্যাটাচি, হাই কমিশন, বিদেশি রাষ্ট্রের লিগেশন বা কমিশন কর্তৃক তাহাদের এইরূপ যোগ্যতায় চাকরি সূত্রে সংশ্লিষ্ট সরকার হইতে প্রাপ্ত পারিতোষিক।
- বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি রাষ্ট্রের ট্রেড কমিশনার বা অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধি (উক্ত পদে অনবরতভাবে দায়িত্ব পালনকারী নন) এইরূপ বেতন বাবদ যে অর্থ গ্রহণ করেন, যদি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রে এইরূপ উদ্দেশ্যে নিয়োজিত সমপর্যায়ের বাংলাদেশি কর্মকর্তা একই ধরনের অব্যাহতি ভোগ করেন।
- উপরের দুই দফায় উল্লিখিত কোনো কর্মচারীর অফিস স্টাফ সদস্য কর্তৃক বেতন হিসেবে গৃহীত আয়, যখন উক্ত সদস্য বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং তাহার প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রের নাগরিক হন বা অন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক হন, এবং এই ধরনের অফিস স্টাফের সদস্য হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা ব্যতীত বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা, পেশা বা চাকরিতে নিযুক্ত না থাকেন।
(৩) সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রাপ্ত অনুদান এবং যেকোনো প্রকারের কর, খাজনা ও শুল্ক।
(৪) সরকারি পেনশন তহবিল হতে করদাতা কর্তৃক গৃহীত বা করদাতার বকেয়া পেনশন।
(৫) সরকারি আনুতোষিক তহবিল হতে করদাতা কর্তৃক আনুতোষিক হিসেবে গৃহীত অনধিক ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আয়।
(৬) কোনো স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অনুমোদিত অবসর তহবিল, পেনশন তহবিল ও অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল-
- কর্তৃক কর্মচারী বা নিয়োগকর্তা হতে গৃহীত কোনো চাঁদা; এবং
- হতে উহাদের সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণকৃত আয় যা উক্ত তহবিলের হাতে ক্যারিওপিত হয়েছে।
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল হতে করদাতা কর্তৃক আনুতোষিক হিসেবে গৃহীত অর্থ অনধিক ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সীমা অতিক্রম করবে না।
(৭) ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ প্রযোজ্য এইরূপ কোনো ভবিষ্য তহবিলে উদ্ভূত বা উপচিত অথবা ভবিষ্য তহবিল হতে উদ্ভূত কোনো আয়।
(৮) সরকারি সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা স্বায়ত্বশাসিত বা আধা-স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা ও তাহাদের নিয়ন্ত্রিত ইউনিটসমূহ বা প্রতিষ্ঠানসমূহের কোনো কর্মচারী কর্তৃক স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সময় এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো পরিকল্প অনুসারে গৃহীত যেকোনো পরিমাণ অর্থ।
(৯) পেনশনার্স সেভিংস সার্টিফিকেট হতে সুদ হিসেবে গৃহীত কোনো অর্থ বা গৃহীত অর্থের সমষ্টি, যে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের শেষে উক্ত সার্টিফিকেটের বিনিয়োগকৃত অর্থের মোট পুঞ্জীভূত অর্জিত মূল্য/প্রকৃত মূল্য/আসল মূল্য/ক্রয় মূল্য অনধিক ৫ লক্ষ টাকা হয়।
(১০) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত নিম্নবর্ণিত সত্তাসমূহ কর্তৃক অর্জিত যেকোনো আয়:
- মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund)
- বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল (Alternative Investment Fund)
- রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (Real Estate Investment Trust)
- এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (Exchange Traded Fund)
(১১) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্র ব্যতীত, সম্পূর্ণভাবে দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ধারণকৃত ট্রাস্ট বা অন্যবিধ আইনগত বাধ্যবাধকতার অধীন গৃহ-সম্পত্তি হতে অর্জিত আয়, যদি উক্ত আয়-
- সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে বাংলাদেশে দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়; অথবা
- কোনো দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, কিন্তু বাংলাদেশে এইরূপ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পুঞ্জীভূত করা হয় বা চূড়ান্তভাবে পৃথক করে রাখা হয়, এবং নির্দিষ্ট শর্তাবলী (কারণ ও মেয়াদ উপ-কর কমিশনারকে অবহিত করা, মেয়াদ ১০ বছরের বেশি না হওয়া, এবং অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বা তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা) পূরণ করে।
(১২) কৃষি আয় সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট শর্তাধীন অব্যাহতি (২০২৪ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে সংযোজিত)।
(১৩) নিম্নবর্ণিত শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত কোনো সত্তার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা হতে উদ্ভূত সার্ভিস চার্জ:
- কেবল মাইক্রোক্রেডিট হিসাবে আবর্তিত হতে হবে; এবং
- যতটুকু অনাবর্তিত হবে কেবল ততটুকুই করযোগ্য হবে।
(১৪) কোনো নিয়োগকারী কর্তৃক কোনো কর্মচারীর ব্যয় নির্বাহ, যদি-
- উক্ত ব্যয় সম্পূর্ণভাবে ও আবশ্যকতা অনুসারে কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সূত্রে ব্যয়িত হয়; এবং
- নিয়োগকারীর জন্য উক্ত কর্মচারীর মাধ্যমে এইরূপ ব্যয় নির্বাহ সর্বাধিক সুবিধাজনক ছিল।
(১৫) গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অংশ হিসেবে প্রাপ্ত আয়ের সেই অংশ, যাহার উপর ইতোমধ্যে কর পরিশোধ করা হয়েছে।
(১৬) হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে একজন করদাতা যে পরিমাণ অর্থ প্রাপ্ত হন, যাহার উপর উক্ত পরিবার কর্তৃক কর পরিশোধিত।
(১৭) বাংলাদেশি কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা কর্তৃক বিদেশে উপার্জিত কোনো আয়, যা তিনি বৈদেশিক রেমিটেন্স সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন অনুসারে বাংলাদেশে আনয়ন করেছেন।
(১৮) কোনো করদাতা কর্তৃক ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বা পাউন্ড স্টার্লিং প্রিমিয়াম বন্ড হতে গৃহীত কোনো আয়।
(১৯) রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির আয়, যা কেবল উক্ত পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ড (আর্থিক পরিসম্পদ হতে আয় ব্যতীত) হতে উদ্ভূত হয়েছে।
(২০) কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির “কৃষি হইতে আয়” খাতের অন্তর্ভুক্ত অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত কোনো আয় যদি উক্ত ব্যক্তির কৃষি হইতে আয় এবং আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় ব্যতীত অন্য কোনো আয় না থাকে (২০২৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে সংযোজিত)।
(২০ক) কোনো ব্যক্তির হাঁস-মুরগী, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারী, পেলেটেড পোল্ট্রি ফিড উৎপাদন, চিংড়ি ও মাছের পেলেটেড ফিড উৎপাদন, দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদন, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, বীজ বিপণন, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার ইত্যাদি খাতের অন্তর্ভুক্ত অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা (২০২৬ সালে সংযোজিত)।
(২১) ১ জুলাই, ২০২৪ হতে ৩০ জুন, ২০২৭ পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত কোনো ব্যবসা হতে উদ্ভূত করনিবাসী ব্যক্তি বা অনিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তির আয়:
| ক্রমিক | খাত |
|---|---|
| ক | এআই ভিত্তিক সমাধান উন্নয়ন (AI based solution development) |
| খ | ব্লকচেইন ভিত্তিক সমাধান উন্নয়ন (blockchain based solution development) |
| গ | রোবোটিক্স প্রসেস আউটসোর্সিং (robotics process outsourcing) |
| ঘ | সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস (software as a service) |
| ঙ | সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিস (cyber security service) |
| চ | ডিজিটাল ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডেটা সাইন্স (digital data analytics and data science) |
| ছ | মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (mobile application development service) |
| জ | সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও কাস্টমাইজেশন (software development and customization) |
| ঝ | সফটওয়্যার টেস্ট ল্যাব সার্ভিস (software test lab service) |
| ঞ | ওয়েব লিস্টিং, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভিস (web listing, website development and service) |
| ট | আইটি সহায়তা ও সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্স সার্ভিস (IT assistance and software maintenance service) |
| ঠ | জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস (geographic information service) |
| ড | ডিজিটাল অ্যানিমেশন ডেভেলপমেন্ট (digital animation development) |
| ঢ | ডিজিটাল গ্রাফিক্স ডিজাইন (digital graphics design) |
| ণ | ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিং (digital data entry and processing) |
| ত | ই-লার্নিং প্লাটফর্ম ও ই-পাবলিকেশন (e-learning platform and e-publication) |
| থ | ফ্রিল্যান্সিং (freelancing) ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন (Content Creation) |
| দ | কল সেন্টার সার্ভিস (call center service) |
| ধ | ডকুমেন্ট কনভার্সন, ইমেজিং ও ডিজিটাল আর্কাইভিং (document conversion, imaging and digital archiving) |
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যবসায়ের সকল আয় শতভাগ ব্যাংক ট্রান্সফার এর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
(২২) এই দফাটি ২০২৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(২৩) বাংলাদেশ সরকারের সাথে প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) এর অধীন বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম পণ্য অনুসন্ধানে নিয়োজিত কোনো পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধানকারী কোম্পানির পক্ষে সরকার কর্তৃক কর হিসেবে পরিশোধিত কোনো অর্থ।
(২৪) যেকোনো পণ্য উৎপাদনে জড়িত ক্ষুদ্র বা মাঝারি শিল্প হতে উদ্ভূত আয়, যার-
- শিল্পটি নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মালিকানাধীন হলে, বাৎসরিক টার্নওভার অনধিক ৭০ লক্ষ টাকা।
- অন্যান্য ক্ষেত্রে, বাৎসরিক টার্নওভার অনধিক ৫০ লক্ষ টাকা।
শর্ত থাকে যে, ক্ষুদ্র বা মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনে নিবন্ধিত হতে হবে।
(২৫) নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, ব্যাংক, বিমা বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত ব্যক্তি কর্তৃক জিরো কূপন বন্ড হতে উদ্ভূত কোনো আয়:
- বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করে কোনো ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উক্ত জিরো কূপন বন্ড ইস্যু করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করে ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জিরো কূপন বন্ড ইস্যু করা হয়েছে।
(২৬) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত এইরূপ কোনো আয় যা “আর্থিক পরিসম্পদ হতে আয়” হিসেবে পরিগণিত নয় এবং যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিম্নবর্ণিত শর্তাবলী পরিপালন করে:
- সরকারের এমপিওভুক্ত (মাসিক পে-অর্ডারের জন্য তালিকাভুক্ত) হয়।
- সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কারিকুলাম অনুসরণ করে।
- সরকারের বিধি-বিধান অনুসারে গঠিত কোনো পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত হয়।
(২৭) “চাকরি হতে আয়” হিসেবে পরিগণিত আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫ লক্ষ টাকা, যা কম।
(২৮) কোনো তহবিল, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা পৃথক আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাহা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নয় বা কোনো আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা কষ্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট বা চার্টার্ড সেক্রেটারীগণের কোনো পেশাজীবী সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত কোনো পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান (প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট) কর্তৃক আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় ব্যতীত অন্য কোনো আয় (২০২৬ সালে সংযোজিত)।
(২৯) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট হতে গৃহীত সম্মানি বা ভাতা প্রকৃতির কোনো অর্থ, বা সরকারের নিকট হতে গৃহীত কোনো কল্যাণ ভাতা।
(৩০) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতিমূলক সরকার হতে গৃহীত কোনো পুরস্কার।
(৩০ক) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত নোবেল, রামোন ম্যাগসেসে, বুকার, পুলিত্জার, সাইমন বলিভার, একাডেমি অ্যাওয়ার্ড, গ্রামি, এমি, গোল্ডেন গ্লোব, কান চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার (২০২৬ সালে সংযোজিত)।
(৩১) কোনো বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা হতে উদ্ভূত কোনো আয়।
(৩২) কোনো কোম্পানির অনুকূলে বণ্টিত কর পরিশোধিত লভ্যাংশ, যদি উক্ত লভ্যাংশ বিতরণকারী কোম্পানি উক্ত কর পরিশোধিত লভ্যাংশের জন্য পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করে।
(৩৩) ৩০ জুন ২০৩০ তারিখের মধ্যে কোনো Ocean going ship being Bangladeshi flag carrier কর্তৃক অর্জিত ব্যবসায়ের আয়, বৈদেশিক রেমিটেন্স সংক্রান্ত বিধানাবলী অনুসরণ করে বাংলাদেশে আনীত হলে অনুরূপ আয়।
(৩৪) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম হইতে প্রাপ্ত সুবিধাভোগীর কোনো আয় (২০২৬ সালে সংযোজিত)।
(৩৪ক) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আয় (২০২৬ সালে সংযোজিত)।
(৩৫) স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই বা বোন, মাতা-পিতা বা সন্তানের নিকট হতে দান হিসেবে গৃহীত কোনো পরিসম্পদ, যদি উহা দাতা ও গ্রহীতার রিটার্নে প্রদর্শিত হয়। তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্ত দান বিদেশ হতে বাংলাদেশে অবস্থিত গ্রহীতার নিকট ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রেরিত হয়, সেক্ষেত্রে দাতার রিটার্নে প্রদর্শনের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
(৩৬) কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত অনধিক ৫০ লক্ষ টাকার কোনো মূলধনী আয়, যা-
- তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি বা তহবিলের শেয়ার বা ইউনিট হস্তান্তর হতে অর্জিত হয়েছে; এবং
- কোনো কোম্পানি বা তহবিলের স্পন্সর, ডিরেক্টর বা প্লেসমেন্ট শেয়ার বা ইউনিট হস্তান্তর হতে অর্জিত নয়।
(৩৭) গোষ্ঠী বিমা পলিসি হতে কর্মচারী কর্তৃক প্রাপ্ত অর্থ বা সুবিধা, তা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন।
ষষ্ঠ তফসিল, অংশ ২ – অনুদান হিসেবে মোট আয় হইতে বাদ
ধারা ৭৭(২) এর সাথে সম্পর্কিত ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ২-এ গবেষণা ও শিক্ষা খাতে দানকৃত আয়ের অব্যাহতি সংক্রান্ত বিধান আছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দান ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে করতে হবে:
দফা (১): কোনো আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ এর অধীন বা এর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো তহবিলে নিম্নবর্ণিত সর্বোচ্চ পরিমাণ সাপেক্ষে দানকৃত কোনো আয়:
- কোনো কোম্পানির আয়ের ১০% বা ৮ কোটি টাকা, দুইয়ের মধ্যে যা কম।
- কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো করদাতার আয়ের ১০% বা ১ কোটি টাকা, দুইয়ের মধ্যে যা কম।
এছাড়া সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বালিকা বিদ্যালয় বা মহিলা কলেজে দানকৃত আয়, এবং সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কোনো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দানকৃত আয়ও এই দফার আওতাভুক্ত। ২০২৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে এই দফায় আরও একটি খাত সংযোজিত হয়েছে।
দফা (২): কোনো আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্প উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত কোনো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে দানকৃত আয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সরকার আইনগতভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তি বা আয়ের উপর গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর আরোপ না করাকেই কর অব্যাহতি বলে।
না, ধারা ১৬৬ ও ১৭১ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে কর অব্যাহতি প্রাপ্তি অস্বীকৃত হয়, তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট দফার ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়।
না, স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা বা সন্তানের নিকট হতে গৃহীত দান রিটার্নে প্রদর্শিত হলে তা মোট আয় হতে বাদ যায়, তবে বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে এলে দাতার রিটার্নে প্রদর্শনের শর্ত প্রযোজ্য হয় না।
দান ব্যাংকিং চ্যানেলে স্থানান্তরিত হতে হবে, রিটার্নে প্রতিফলিত হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
উপসংহার
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী কর অব্যাহতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে করদাতারা আইনসম্মতভাবে অনেক সুবিধা নিতে পারেন। ধারা ৭৬, ৭৭ ও ৭৮ এবং ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১-এর ৩৭টি দফা ও অংশ ২-এর দফাগুলোতে বর্ণিত শর্তগুলো মেনে চললে অনেক আয় কর অব্যাহতি বা মোট আয় থেকে বাদ যাওয়ার সুযোগ পায়।
তবে ভুল তথ্য দিলে বা রিটার্ন দাখিলে অবহেলা করলে এই সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে। তাই রিটার্ন প্রস্তুত করার আগে একজন কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। আপনার আয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী কর অব্যাহতি প্রযোজ্য কিনা, তা যাচাই করে নিন এবং আইনসম্মতভাবে কর সাশ্রয় করুন।