পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নির্ধারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ভাবুন তো, বিদেশে যাওয়ার আগে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট করতে গিয়ে কেউ ৫০০ টাকা চাইল, কেউ বা ১০০০ টাকা। বাড়তি টাকা দিতে গিয়ে পকেট যেমন ফাঁকা হচ্ছে, তেমনি আপনি পড়ছেন বিভ্রান্তিতে। ঠিক এই হয়রানি বন্ধ করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তাহলে আজকের এই তথ্যটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এখন থেকে পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের খরচ কমে আপনার হাতের নাগালে চলে এসেছে।

পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট ফি: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

বিদেশগামী যাত্রীদের অভিযোগ ছিল যে, পাসপোর্টে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের নামে অনেক মানি চেঞ্জার ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছে। এই অনিয়ম রুখতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার বেশি নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা এখন থেকে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবে। আপনি কত টাকা বা বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করছেন, সেই পরিমাণ যাই হোক না কেন—এই ৩০০ টাকার বেশি ফি দাবি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

কেন এই নতুন নিয়ম?

আগে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টের ফি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা (জিএফইটি)-২০১৮ অনুযায়ী মানি চেঞ্জারদের এনডোর্সমেন্টের অনুমতি থাকলেও ফির বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। ফলে অনেক যাত্রী হয়রানির শিকার হতেন। সেই স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

মানি চেঞ্জারদের জন্য বাধ্যতামূলক কিছু নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু ফি নির্ধারণ করেই থেমে থাকেনি, গ্রাহকদের সুবিধার্থে আরও কিছু নিয়ম চালু করেছে:

  • দৃশ্যমান স্থানে তালিকা: প্রতিটি মানি চেঞ্জারকে তাদের অফিসের এমন জায়গায় ফির তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে হবে যা গ্রাহকের চোখে পড়ে।
  • লিখিত রসিদ: আপনি ৩০০ টাকা ফি দেওয়ার পর মানি চেঞ্জার আপনাকে একটি লিখিত রসিদ দিতে বাধ্য। এটি আপনার লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
  • স্বাক্ষর ও সিল: জিএফইটি-২০১৮ অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির তথ্য পাসপোর্টে এবং বিমান টিকিটে (আকাশপথের ক্ষেত্রে) মানি চেঞ্জারের অনুমোদিত ব্যক্তির সিল ও স্বাক্ষরসহ থাকতে হবে।
  • হিসাব সংরক্ষণ: মানি চেঞ্জারদের সব এনডোর্সমেন্ট ফির আলাদা এবং সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)

১. আমি কি যেকোনো ব্যাংক বা মানি চেঞ্জার থেকে এনডোর্সমেন্ট করতে পারি?

হ্যাঁ, আপনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত যেকোনো মানি চেঞ্জার বা এডি (Authorized Dealer) শাখা থেকে এটি করতে পারেন। তবে মানি চেঞ্জারের ক্ষেত্রে নতুন ফি প্রযোজ্য।

২. আমি বেশি ডলার এনডোর্সমেন্ট করলে কি ফি বেশি লাগবে?

না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মুদ্রার পরিমাণ যাই হোক না কেন, ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকাই থাকবে।

৩. যদি কোনো মানি চেঞ্জার ৩০০ টাকার বেশি দাবি করে তবে কী করব?

সে ক্ষেত্রে আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ জানাতে পারেন। কারণ, এটি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার লঙ্ঘন।

শেষ কথা

বিদেশে ভ্রমণের প্রস্তুতির সময় ছোট ছোট নিয়মগুলো জানা থাকলে হয়রানি থেকে বাঁচা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন থেকে পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী। তাই পরবর্তী ভ্রমণে ডলার এনডোর্সমেন্ট করার সময় অবশ্যই এই ৩০০ টাকার সীমার কথা মনে রাখুন এবং রসিদ সংগ্রহ করুন।

আপনার কি পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট নিয়ে আরও কোনো প্রশ্ন আছে? অথবা আপনি কি সম্প্রতি কোনো মানি চেঞ্জারে গিয়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে দেখেছেন? কমেন্টে আমাদের জানান! আর এই দরকারি তথ্যটি শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন।

About The Author

Leave a Reply