Site icon Chartered Journal

যেসব সেবায় আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না

no tax return proof

চলতি অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের জন্য দারুণ এক স্বস্তির খবর এসেছে। এত দিন ধরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৪ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবায় এই বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।

আসুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক, চলতি বছর থেকে কোন কোন সেবাকে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখানো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে “রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ” দাখিলের পরিবর্তে নাম ও টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

১. সঞ্চয়পত্র ক্রয় (১০ লাখ টাকা পর্যন্ত): যারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা। এখন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে না। এটি বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে, যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর নির্ভরশীল।

২. মেয়াদী আমানত (১০ লাখ টাকা পর্যন্ত): ব্যাংকগুলোতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত মেয়াদী আমানত (এফডিআর) খোলা বা বহাল রাখার ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এফডিআর খুলতে বা চালু রাখতে ব্যাংক কর্মকর্তাকে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে না।

৩. ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ ও নবায়ন: ক্রেডিট কার্ড নেওয়া এবং নবায়নের সময় এত দিন আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক ছিল। চলতি অর্থবছর থেকে এই শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে, যা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি।

৪. ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ (সিটি করপোরেশন/পৌরসভা): সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় নতুন ট্রেড লাইসেন্স নিতে এখন থেকে আর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না। এটি নতুন উদ্যোক্তা এবং ছোট ব্যবসার মালিকদের জন্য প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।

৫. সমবায় সমিতির নিবন্ধন: সমবায় সমিতির নিবন্ধন নেওয়ার সময়ও আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন হবে না।

৬. সাধারণ বিমার সার্ভেয়ার লাইসেন্স (নতুন): সাধারণ বিমার তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার হিসেবে নতুন লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

৭. স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ: চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি, অ্যাকচুয়ারি, প্রকৌশলী, স্থপতি ও সার্ভেয়ার হিসেবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণের সময় এখন থেকে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না।

৮. পোস্ট অফিস সঞ্চয়ী হিসাব (পাঁচ লাখ টাকার অধিক): পাঁচ লাখ টাকার অধিক পোস্ট অফিস সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে আর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে না।

৯. এমপিওভুক্ত কর্মচারীর অর্থপ্রাপ্তি: এমপিওভুক্তির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মচারীর কোনো অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

১০. মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে): স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (মোবাইল ব্যাংকিং) বা ইলেকট্রনিক উপায়ে টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে এবং মোবাইল ফোনের হিসাব রিচার্জের মাধ্যমে কমিশন, ফি বা অন্য কোনো অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না।

১১. স্ট্যাম্প, কোর্ট ও কার্টিজ পেপারের ভেন্ডর/দলিল লেখক লাইসেন্স: স্ট্যাম্প, কোর্ট ও কার্টিজ পেপারের ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসেবে লাইসেন্স নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তিতেও এই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

১২. ত্রিচক্র মোটরযানের নিবন্ধন/মালিকানা পরিবর্তন/ফিটনেস নবায়ন: ত্রিচক্র মোটরযানের (যেমন সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক) নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নের সময়ও আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না।

১৩. ই-কমার্স ব্যবসার লাইসেন্স (ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে): ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং অথরিটির কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণের সময় আর আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে না।

১৪. স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো আইন বা আইনি ক্ষমতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের অধীন নিগমিত, নিবন্ধিত বা গঠিত হইবার বৎসর বা পরের বৎসরে: এর অর্থ হল, সাধারণ মানুষ ছাড়া অন্য কোনো সত্তা, যেমন কোম্পানি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, যদি আইনগতভাবে গঠিত বা নিবন্ধিত হয়, তবে সেই বছর বা তার পরের বছর কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন প্রযোজ্য হবে, যেখানে আগে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রের বাধ্যবাধকতা ছিল, এখন তা নাও থাকতে পারে।

শেষ কথা

উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ সেবায় আয়কর রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে, তেমনি বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আসবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, নতুন উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য এটি বিশেষ সহায়ক হবে, কারণ তাদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজতর হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক জানতে আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত “যেসকল সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিল করতে হবে” লেখাটি পড়তে পারেন। এছাড়াও আয়কর সম্পর্কিত আরও তথ্য আমাদের আয়কর বিভাগ থেকে পাবেন।

Exit mobile version