বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে কি কি লাগে। ভিসা হাতে পাওয়ার পর টিউশন ফি ও থাকা খাওয়ার খরচ পাঠাতে ব্যাংকে এই বিশেষ হিসাব খোলা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু একেক ব্যাংক একেক রকম কাগজপত্র চায়, ফলে অনেকেই শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। আমরা দেখাবো স্টুডেন্ট ফাইল আসলে কী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য কোন কোন ডকুমেন্টস জরুরি, খরচ কেমন হয় এবং কোন ব্যাংক এই সেবায় ভালো। পুরো লেখাটি পড়লে ব্যাংকে যাওয়ার আগেই আপনি সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলতে পারবেন।
স্টুডেন্ট ফাইল কী?
স্টুডেন্ট ফাইল হলো বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা একধরনের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ব্যাংক হিসাব। এই হিসাবের মূল কাজ হলো টিউশন ফি ও থাকা খাওয়ার খরচ নিরাপদে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো। ফাইল খোলার পর শিক্ষার্থীকে সাধারণত একটি ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়, যা দিয়ে তিনি দেশের বাইরে গিয়ে নিজের খরচ চালাতে পারেন। এছাড়া অনেক ব্যাংক এই ফাইলের সাথে শিক্ষা ঋণের সুবিধাও যুক্ত করে দেয়। সাধারণত ভিসা হওয়ার পরেই স্টুডেন্ট ফাইল খোলার আবেদন করতে হয়, কারণ বেশিরভাগ ব্যাংক ভিসার কপি ছাড়া ফাইল খুলতে রাজি হয় না।
কেন স্টুডেন্ট ফাইল খোলা জরুরি
বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো সরাসরি বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া, এখানে বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হয়। প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, মালয়েশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পড়তে যান, এবং তাঁদের প্রত্যেকের টিউশন ফি ও থাকা খাওয়ার খরচ আইনগতভাবে পাঠানো দরকার। স্টুডেন্ট ফাইল ঠিক এই কাজটিই সহজ করে দেয়। ব্যাংক নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে শিক্ষার্থীকে আলাদা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যেতে হয় না।
স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে কি কি লাগে
শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা:
- সঠিকভাবে পূরণকৃত আবেদন ফর্ম
- বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রদত্ত অফার লেটারের মূল ও ফটোকপি, কোর্সের সময়কাল উল্লেখসহ (যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে I-20)
- বার্ষিক টিউশন ফি, আবাসন ও খাদ্য খরচের বিবরণ সহ প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত আনুমানিক খরচের মূল ও ফটোকপি
- সত্যায়িত পূর্ববর্তী শিক্ষাগত সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
- IELTS বা TOEFL স্কোরশিট, যদি প্রয়োজন হয়
- বৈধ পাসপোর্টের কপি, আগে বিদেশ গিয়ে থাকলে পুরাতন পাসপোর্টের কপিও
- ভিসার কপি, থাকলে জমা দিতে হবে
- এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক বিবরণী
- সেমিস্টার বা বছরের টিউশন ফি পরিশোধের সময়সূচি
- শিক্ষার্থীর স্বঘোষণা পত্র
ইবিএল, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইউসিবির মতো ব্যাংকগুলো মূলত এই তালিকাই অনুসরণ করে, তবে শিক্ষা ঋণ সুবিধাসহ ব্যাংকগুলোতে আরও এক দুটি অতিরিক্ত ফর্ম চাওয়া হতে পারে।
স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে অভিভাবকের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
স্টুডেন্ট ফাইল একা শিক্ষার্থীর তথ্যে চলে না। টাকা মূলত অভিভাবক বা স্পনসরের হিসাব থেকেই পাঠানো হয়, তাই অভিভাবকের নিচের কাগজপত্রও জমা দিতে হয়:
- অভিভাবকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- এনআইডি, জন্মসনদ বা পাসপোর্টের কপি
- সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল, যেমন বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল
- ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স, চাকুরিজীবী হলে স্যালারি সার্টিফিকেট
- টিআইএন সার্টিফিকেট
- আয়ের প্রমাণপত্র
- নমিনির এনআইডি কপি ও এক কপি ছবি
যে ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল খোলা হচ্ছে, সেখানে অভিভাবকের হিসাব না থাকলে আগে নতুন করে সেই হিসাব খুলতে হবে। ইবিএলের মতো কিছু ব্যাংক শর্ত দেয় যে শিক্ষার্থী ও অর্থ প্রদানকারী দুজনকেই ফাইল খোলার সময় শাখায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
বিদেশে সেমিস্টার ফি পাঠানোর জন্য কী কী লাগে
স্টুডেন্ট ফাইল খোলাটা শুধু প্রথম ধাপ। নতুন সেমিস্টার শুরুর আগে ব্যাংক আবার নিচের কাগজপত্র চায়:
- পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ফি পরিশোধের রসিদ
- পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ফলাফল বা ট্রান্সক্রিপ্ট
- নতুন সেমিস্টারের টিউশন ফির ইনভয়েস
পরীক্ষার মৌসুমে ব্যাংকের সাথে বারবার যোগাযোগ এড়াতে এই কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি আগে থেকেই তৈরি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
কোন ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে কত খরচ পড়ে
ব্যাংকভেদে ওপেনিং ও রিনিউয়াল চার্জে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। সময়ের সাথে চার্জ পরিবর্তন হতে পারে বলে শাখায় গিয়ে বর্তমান চার্জ নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
| ব্যাংক নাম | ওপেনিং চার্জ | রিনিউয়াল চার্জ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সিটি ব্যাংক | ৮,০০০ টাকা | ৭,০০০ টাকা | আপডেট চার্জ ৫,০০০ টাকা, সার্টিফিকেট ফি ৫০০ টাকা, ক্লোজিং সার্টিফিকেট ১,০০০ টাকা, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ২,০০০ টাকা; সব চার্জের উপর ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য |
| ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) | ৮,৬২৫ টাকা (ভ্যাট সহ) | ৭,৪৭৫ টাকা (ভ্যাট সহ) | ইবিএলে সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক, শিক্ষার্থী ও অর্থ প্রদানকারী দুজনকেই উপস্থিত থাকতে হয় |
| ঢাকা ব্যাংক | ৮,০০০ টাকা + ভ্যাট | ৬,০০০ টাকা + ভ্যাট | ফরেন ড্রাফট ইস্যু চার্জ ১,০০০ টাকা + ভ্যাট, সুইফট কমিউনিকেশন চার্জ ২,০০০ টাকা + ভ্যাট |
| ইউসিবি | ৮,০০০ টাকা | পরবর্তী বছরগুলোতে ৫,৫০০ টাকা | ইম্পেরিয়াল গ্রাহকের জন্য ৫০% ছাড়, এনওসি/সার্টিফিকেট ফি ৫০০ টাকা, ফাইল ট্রান্সফার ফি ৫,০০০ টাকা |
| সোনালী ব্যাংক | ৬,৩২৫ টাকা (ভ্যাট সহ) | ৫,৭৫০ টাকা (ভ্যাট সহ) | সরকারি ব্যাংক, ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড ব্রাঞ্চে ফাইল খোলা হয় |
| প্রিমিয়ার ব্যাংক | ৬,০০০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া) | ৬,০০০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া) | ওপেনিং ও রিনিউয়াল ফি একই |
| প্রাইম ব্যাংক | ৬,০০০ টাকা | ৬,০০০ টাকা | এনওসি/ক্লোজিং ফি ১,০০০ টাকা, অন্য ব্যাংকে ট্রান্সফার ফি ২,০০০ টাকা, সার্টিফিকেট ফি ৫০০ টাকা |
| স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক | ৫,০০০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া) | ৫,০০০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া) | প্রায়োরিটি ক্লায়েন্টদের জন্য ৩,০০০ টাকা |
| ব্র্যাক ব্যাংক | ৩,৫০০ টাকা | ৩,০০০ টাকা | তারা ও সিনিয়র সিটিজেন গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ছাড় |
উপরের ব্যাংক চার্জগুলো সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেওয়া, তবে চার্জ পরিবর্তন হতে পারে বলে স্টুডেন্ট ফাইল খোলার আগে শাখা বা ওয়েবসাইটে যাচাই করে নিন।
ফাইল বন্ধ বা ট্রান্সফার করলে অতিরিক্ত যে চার্জ লাগে
| ব্যাংক নাম | এনওসি বা সার্টিফিকেট ফি | ফাইল ট্রান্সফার ফি |
|---|---|---|
| সিটি ব্যাংক | ৫০০ টাকা (ক্লোজিং সার্টিফিকেট ১,০০০ টাকা) | ২,০০০ টাকা |
| ইউসিবি | ৫০০ টাকা | ৫,০০০ টাকা |
| প্রাইম ব্যাংক | ৫০০ টাকা (ক্লোজিং ১,০০০ টাকা) | ২,০০০ টাকা |
তুলনামূলক কম খরচ চাইলে ব্র্যাক ব্যাংক বা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রায়োরিটি সুবিধা বিবেচনা করা যায়, আর সরকারি ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংক একটি ভালো অপশন হতে পারে। ভবিষ্যতে ফাইল ট্রান্সফার বা এনওসির প্রয়োজন হতে পারে ভাবলে প্রাইম ব্যাংক বা সিটি ব্যাংকের চার্জ তুলনামূলক কম।
কোন ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল খোলা ভালো
সঠিক ব্যাংক নির্বাচন নির্ভর করে আপনার গন্তব্য দেশ ও আগে থেকে কোন ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক আছে তার উপর। এই সেবায় ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে নিচের ব্যাংকগুলোর:
- পূবালী ব্যাংক
- সিটি ব্যাংক
- ব্র্যাক ব্যাংক
- ডাচ্ বাংলা ব্যাংক
- ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল)
- প্রাইম ব্যাংক
- ব্যাংক এশিয়া
- প্রিমিয়ার ব্যাংক
- ইউসিবি
- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)
- এবি ব্যাংক
- ঢাকা ব্যাংক
- সোনালী ব্যাংক
- স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকও এই সেবা দিয়ে থাকে। ব্যাংক বাছাইয়ের আগে দেখে নেওয়া উচিত তাদের আলাদা স্টুডেন্ট ডেস্ক আছে কিনা, রেমিট্যান্স কত দ্রুত প্রসেস হয়, এবং আপনার গন্তব্য দেশে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে কিনা।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্টুডেন্ট ফাইল খোলার নিয়ম
বৈধ এনআইডি ও পাসপোর্ট থাকা যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক আবেদন করতে পারেন, তবে শিক্ষার্থী বা স্পনসরের এই ব্যাংকে একটি সক্রিয় হিসাব থাকতে হবে। নিচের কোর্সগুলোর জন্য স্টুডেন্ট ফাইল খোলা যায়:
- রেগুলার আন্ডারগ্র্যাড প্রোগ্রাম
- রেগুলার পোস্টগ্র্যাড প্রোগ্রাম
- উচ্চতর ডিগ্রির পূর্বশর্ত ল্যাংগুয়েজ কোর্স
- প্রফেশনাল ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স
এই তালিকার বাইরে অন্য কোনো কোর্সের জন্য আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের স্টুডেন্ট ফাইল খোলার নিয়ম
আন্ডারগ্র্যাড, পোস্টগ্র্যাড, ব্যাচেলর ডিগ্রির পূর্বশর্ত ল্যাংগুয়েজ কোর্স এবং প্রফেশনাল ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সের জন্য তাদের এডি বা নন এডি শাখা থেকে টাকা পাঠানো যায়। টিউশন ফির টাকা সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে ড্রাফট বা টিটির মাধ্যমে যায়, আর থাকা খাওয়ার খরচ চাইলে শিক্ষার্থীর নামেও ইস্যু করা যায়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) এর স্টুডেন্ট ফাইল খোলার নিয়ম
এমটিবি তাদের স্টুডেন্ট ফাইল সেবাকে একটি কাস্টমাইজড সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করে, যেখানে থাকে:
- নিবেদিত স্টুডেন্ট সেন্টার
- দ্রুত প্রসেসিং
- তুলনামূলক কম প্রসেসিং ফি, এডু ফিন্যান্স নিলে বিশেষ ছাড়
- ইনস্যুরেন্স সুবিধা, কোভিড ১৯ সহ প্রাকৃতিক মৃত্যুতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা এবং স্থায়ী পঙ্গুত্বে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা কভারেজ
এই সুবিধা নিতে পারেন বিদেশগামী যেকোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।
স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে গিয়ে সাধারণ যে ভুলগুলো হয়
- ব্যাংক মূল ভাষায় অফার লেটার চেয়েছে, অথচ অনুবাদ করা কপি জমা দেওয়া
- অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে শিক্ষাগত সনদ সত্যায়িত না করা
- এমন ব্যাংকে ফাইল খোলার চেষ্টা করা যেখানে অভিভাবকের কোনো হিসাব নেই
- টিউশন ফি, আবাসন ও অন্যান্য খরচের আলাদা বিবরণ না দেওয়া
- ভিসা হওয়ার আগেই আবেদন করা, যেখানে ব্যাংক ভিসার কপি ছাড়া ফাইল খোলে না
- ওপেনিং ও রিনিউয়াল চার্জের উপর ভ্যাট যুক্ত হয় কিনা তা আগে থেকে যাচাই না করা
- ভবিষ্যতে ফাইল ট্রান্সফার বা বন্ধ করতে হতে পারে জেনেও সেই চার্জ আগে থেকে না জেনে রাখা
ব্যাংকে যাওয়ার আগে এই ছোট বিষয়গুলো ঠিক করে নিলে অতিরিক্ত একটি ট্রিপ এড়ানো সম্ভব।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
স্টুডেন্ট ফাইল কী?
বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ব্যাংক হিসাব, যা দিয়ে টিউশন ফি ও থাকা খাওয়ার খরচ বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।
স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে কি কি লাগে?
মূলত অফার লেটার, খরচের বিবরণ, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট ও ভিসার কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অভিভাবকের এনআইডি, আয়ের প্রমাণ ও ইউটিলিটি বিল প্রয়োজন হয়।
কোন ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইলের খরচ সবচেয়ে কম?
ব্র্যাক ব্যাংকে ওপেনিং চার্জ ৩,৫০০ টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রায়োরিটি ক্লায়েন্টদের জন্য ৩,০০০ টাকা, যা তুলনামূলক কম, তবে শাখায় গিয়ে বর্তমান চার্জ যাচাই করে নেওয়া উচিত।
স্টুডেন্ট ফাইল বন্ধ বা ট্রান্সফার করতে কি আলাদা চার্জ লাগে?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ব্যাংকে এনওসি বা সার্টিফিকেট ফি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা এবং ট্রান্সফার ফি ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
স্টুডেন্ট ফাইলের জন্য অভিভাবকের হিসাব থাকা কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, যে ব্যাংকে ফাইল খোলা হচ্ছে সেখানে অভিভাবক বা স্পনসরের একটি সক্রিয় হিসাব থাকতে হবে, কারণ টাকা সেই হিসাব থেকেই পাঠানো হয়।
উপসংহার
স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে কি কি লাগে এবং কোন ব্যাংকে খরচ কেমন, তা আগে থেকে জানা থাকলে বিদেশ যাত্রার আগের সময়টা অনেক কম চাপের হয়ে যায়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবক দুই পক্ষের কাগজপত্র একসাথে গুছিয়ে রাখলে এবং কয়েকটি ব্যাংকের ওপেনিং, রিনিউয়াল ও ট্রান্সফার চার্জ তুলনা করে নিলে পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ মনে হবে। ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগেই আপনার পছন্দের ব্যাংকের স্টুডেন্ট ডেস্কে গিয়ে সঠিক তালিকা ও চলতি চার্জ যাচাই করে নিন এবং সময় থাকতেই সত্যায়িত কপিগুলো তৈরি করে ফেলুন।

