ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সুখবর আসতে পারে আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কষাঘাতে জর্জরিত সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকার বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়াতে পারে। বর্তমানে বার্ষিক সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। এই সীমা সম্ভবত ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৩ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকায়। আগামী ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা করবেন, তখন এই সুখবরটি পাওয়া যেতে পারে।
শুধু তাই নয়, আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে এতদিন ধরে যে অঞ্চলভিত্তিক ভেদাভেদ ছিল, সেটিও হয়তো ঘুচতে চলেছে। খবর অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে শহর ও গ্রামের করদাতাদের জন্য একই হারে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা আয়কর ধার্য করা হতে পারে। এতদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোর বাসিন্দারা ৫ হাজার টাকা ন্যূনতম কর দিতেন, যেখানে মফস্বল ও গ্রামের মানুষের জন্য এই অঙ্কটা ছিল তুলনামূলক কম। এই বৈষম্য দূর করে একটি fairer ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, আয়কর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে ব্যক্তিগত শ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
কর কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বেশ কিছুদিন ধরেই জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে যাদের আয় কম, তাদের জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই, এই পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোটা জরুরি ছিল। গত দুই বছর এই সীমা বাড়েনি। অথচ এই সময়ে মূল্যস্ফীতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। খাবারের দাম তো রীতিমতো অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)-এর তথ্য বলছে, গত এক বছরে খাবারের দাম গড়ে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ।
অতীতে দেখা গেছে, সরকার সাধারণত দুই-তিন বছর পর পর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়েছে। তবে, এবারের পরিস্থিতিটা একটু আলাদা। লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তাই, আসন্ন বাজেটে সরকার কতটা উদার হয় এবং সাধারণ মানুষকে কতটা স্বস্তি দিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাশাপাশি, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম চালু হলে কর ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা যায়।

