Site icon Chartered Journal

সাহাবীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম

sahabis business name

সাহাবীরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য (বণিক) এবং কৃষিকাজ-এর সাথে বেশি জড়িত ছিলেন। মুহাজির সাহাবীদের (মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী) মধ্যে বণিক বা ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি ছিল, আর আনসার সাহাবীদের (মদিনার স্থানীয় বাসিন্দা) মধ্যে কৃষক, বাগানওয়ালা এবং খেজুর চাষী হিসেবে প্রসিদ্ধি ছিল। তাঁদের ব্যবসা ছিল মূলত সততা, আস্থা ও আল্লাহভীতির ওপর ভিত্তি করে। আজকের মতো রেজিস্টার্ড “কোম্পানি” বা “প্রতিষ্ঠানের নাম” সেইভাবে তাদের সময়ে ছিল না। ব্যবসা তখন ব্যক্তিগত মালিকানা বা পার্টনারশিপের মাধ্যমে পরিচালিত হত।

সাহাবী ব্যবসায়ীগণ ও তাদের ব্যবসার ধরন

ঐতিহাসিক সূত্রে কিছু সাহাবী ও তাদের ব্যবসায়িক পরিচিতি পাওয়া যায়। আসুন কয়েকজন সাহাবীদের ব্যবসায়ের ধরণ সম্পর্কে জানি:

১. হযরত আবু বকর (রাঃ): আবু বকর (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রধান সাহাবী এবং প্রথম খলিফা। তিনি ছিলেন কাপড়ের ব্যবসায়ী। মক্কার বাজারে কাপড় বিক্রি করতেন। ব্যবসার সততা ও আমানতের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।

২. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ): হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা এবং তাঁর অঢেল সম্পদের জন্য তিনি ‘আল-গনী’ (ধনী) উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। তাঁর বাণিজ্য মূলত কাপড়, খাদ্যশস্য ও সিরিয়া-মদিনার মধ্যে আমদানি–রপ্তানি নির্ভর ছিল। ইতিহাসে তাঁর ব্যবসা উসমানের বাণিজ্যপণ্য নামে পরিচিত ছিল। ইসলামের জন্য তিনি ব্যপক দান করেন।

৩. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ): হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। মদিনায় হিজরত করার পর কোনো মূলধন ছাড়াই বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে শুকনো খেজুর ও তেল বিক্রি করতেন। পরে ঘোড়ার জিনের ব্যবসা করে অনেক লাভবান হন। হাদীসে এসেছে, তিনি মৃত্যুর সময় বিপুল সম্পদের মালিক ছিলেন।

৪. হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ): হযরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ) ছিলেন বিখ্যাত ব্যবসায়ী। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের বাজারে তাঁর ব্যবসা চলত। ঐতিহাসিক বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি পোশাক ও বস্ত্রের ব্যবসাও করতেন। এক বর্ণনা অনুযায়ী, একবার হাদরামাউত (ইয়েমেন) থেকে তাঁর বাণিজ্যের লাভ বাবদ সত্তর হাজার দিরহাম এসেছিল। ইতিহাসে তিনি ধনীদের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিত। ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত বিপুল সম্পদ তিনি ইসলামের পথে দু’হাতে দান করতেন। অতিরিক্ত সম্পদ জমা হয়ে গেলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়তেন এবং তা দ্রুত দান করে দিতেন। তাঁর এই অসাধারণ উদারতার জন্য তিনি ইতিহাসে “তালহা আল-ফাইয়্যাদ” বা “দানশীল তালহা” নামে সুপরিচিত। তিনি দরিদ্র আত্মীয়-স্বজন ও অভাবীদের বিশেষভাবে সাহায্য করতেন।

৫. হযরত জুবাইর ইবনে আওয়াম (রাঃ): হযরত জুবাইর ইবনে আওয়াম (রাঃ) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ফুফাতো ভাই এবং খাদিজা (রাঃ)-এর ভাতিজা। ভূমি ও বাণিজ্য বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি যে ব্যবসাতেই হাত দিতেন, তাতেই আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় প্রচুর বরকত লাভ করতেন এবং কখনও লোকসান হতো না।

শেষকথা

সাহাবীদের সময়ে আধুনিক অর্থে “কোম্পানি” বা “ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম” ছিল না। তাদের ব্যবসা ব্যক্তিগত পরিচয়ে বা পার্টনারশিপের মাধ্যমে চলত। তবে কিছু সাহাবীর ব্যবসা এতটাই পরিচিত ছিল যে জনগণ তাদের পণ্য ও বাণিজ্যকে তাঁদের নাম দিয়েই চিনত

Exit mobile version