Site icon Chartered Journal

জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে কর কমতে পারে

land and flat registration tax reduce

আগামী অর্থবছরের বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে কর কমানোর বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার সাথে একাধিক বৈঠক করেছে। বর্তমানে জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হয়, যার মধ্যে এনবিআর সংশ্লিষ্ট করই ৭ থেকে ১১ শতাংশ। এই উচ্চ নিবন্ধন খরচের কারণে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েই বৈধভাবে জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচা করতে নিরুৎসাহিত হন, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে ফ্ল্যাটের আকারভেদে নিবন্ধন খরচ ১৫.৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর মধ্যে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প শুল্ক, নিবন্ধন ফি, স্থানীয় সরকার ফি এবং ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে, জমি রেজিস্ট্রেশনেও বিভিন্ন ধরনের খরচ রয়েছে, যা স্থান ও মৌজা রেট অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

ব্যবসায়ীদের মতামত

আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, এই মাত্রাতিরিক্ত নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে বৈধভাবে স্থাবর সম্পদ কেনাবেচা কমে যাচ্ছে। রিহ্যাব (রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৯ শতাংশ এবং পুরোনো ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, এই উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় উপমহাদেশের অন্য কোথাও নেই এবং এটি আবাসন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এনবিআর-এর পদক্ষেপ

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, তারা ব্যাপক হারে কর কমাতে চান এবং ধীরে ধীরে এটি ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে চান। এনবিআরের কর বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান এবং আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

পূর্ববর্তী পদক্ষেপ

রকার ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে মৌজা ভিত্তিতে করহার নির্ধারণ করে এবং ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার কিছু জমির রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে আনে। তবে, এখনও নিবন্ধন ব্যয় অনেক বেশি রয়ে গেছে।

উচ্চ উপকরণ ও নিবন্ধন ব্যয় এবং অন্যান্য কারণে ফ্ল্যাটের বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০২০-২২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ১৫ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি হলেও, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি কমে ৯ হাজার ৫০০-তে নেমে এসেছে।

উপসংহার

সরকার যদি জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে কর কমায়, তবে এটি ক্রেতাদের জন্য একটি বড় সুখবর হবে। এতে আবাসন খাত চাঙা হবে এবং সরকারও বেশি রাজস্ব পাবে।

Exit mobile version