নতুন আবগারি শুল্ক চার্ট অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যালেন্সে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। এর আগের অর্থবছরে এই সীমা ছিল ৩ লক্ষ টাকা। আরও আগে ১ লক্ষ টাকার বেশি ব্যালেন্স হলেই শুল্ক কাটা হতো।
সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ৭ জুন ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে। প্রজ্ঞাপনটির নম্বর এস.আর.ও. নং-১২৬-আইন/২০২৬/৩৩১-আবগারি। ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংককে এটি অনুসরণ করতে বলেছে।
এই লেখায় আপনি পাবেন হালনাগাদ স্লাবের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং সার্কুলারের মূল কথা। সঙ্গে থাকছে হিসাবের উদাহরণ ও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নতুন শর্তের ব্যাখ্যা। শেষে পাঠকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তরও দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আবগারি শুল্ক কী?
আবগারি শুল্ক সরকারের রাজস্ব আদায়ের একটি মাধ্যম। বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ওপর এই শুল্ক ধরা হয়। ব্যাংক নিজেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। এ জন্য গ্রাহককে আলাদা কোনো ফরম পূরণ করতে হয় না।
ব্যালেন্স যত বেশি হয়, স্লাব তত উঁচুতে যায় এবং শুল্কও বাড়ে। ছোট অঙ্কের সঞ্চয়কারীদের জন্য তাই শুল্কমুক্ত সীমা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সীমা বাড়লে সরাসরি তাঁদের সঞ্চয়ের ওপর চাপ কমে।
আবগারি শুল্ক চার্ট ২০২৬
বছরের যেকোনো সময়ের সর্বোচ্চ ব্যালেন্স ধরে শুল্ক নির্ধারণ হয়। নিচের আবগারি শুল্ক চার্ট দেখলেই আপনি নিজের অ্যাকাউন্টের শুল্ক জেনে নিতে পারবেন। প্রথম দুটি স্লাব নতুন সীমা অনুযায়ী হালনাগাদ করা হয়েছে।
| সর্বোচ্চ ব্যালেন্স (টাকা) | আবগারি শুল্ক (টাকা) |
|---|---|
| ৪,০০,০০০ পর্যন্ত | ০ |
| ৪,০০,০০১ থেকে ৫,০০,০০০ | ১৫০ |
| ৫,০০,০০১ থেকে ১০,০০,০০০ | ৫০০ |
| ১০,০০,০০১ থেকে ৫০,০০,০০০ | ৩,০০০ |
| ৫০,০০,০০১ থেকে ১,০০,০০,০০০ | ৫,০০০ |
| ১,০০,০০,০০১ থেকে ২,০০,০০,০০০ | ১০,০০০ |
| ২,০০,০০,০০১ থেকে ৫,০০,০০,০০০ | ২০,০০০ |
| ৫,০০,০০,০০১ এর বেশি | ৫০,০০০ |
সংশোধনী প্রজ্ঞাপনে শুধু ৩ লক্ষ টাকার সীমা ৪ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। বাকি স্লাবের অঙ্ক আগের মতোই আছে। তবুও চূড়ান্ত হিসাবের আগে নিজের ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
নতুন আবগারি শুল্ক চার্টে কী পরিবর্তন এসেছে
নতুন আবগারি শুল্ক চার্টে মূল পরিবর্তন একটি জায়গায়। শুল্কমুক্ত ব্যালেন্সের সীমা ৩ লক্ষ থেকে বেড়ে ৪ লক্ষ টাকা হয়েছে। ফলে ১৫০ টাকার স্লাব এখন শুরু হবে ৪,০০,০০১ টাকা থেকে। প্রজ্ঞাপনের টেবিলে সেবা কোড E032.00 এর অধীনে এই সংশোধন করা হয়েছে।
সীমার পরিবর্তন এক নজরে দেখে নিন:
- আগে: ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত
- ২০২৫-২৬ অর্থবছর: ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত
- ১ জুলাই ২০২৬ থেকে: ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত
ইসলামী ব্যাংকিংয়ে লোন ও ডিল অ্যাকাউন্টের নতুন নিয়ম
প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় ও সমান গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য। মূল প্রজ্ঞাপনের অনুচ্ছেদ ১ এর শর্তাংশের শেষে থাকা “।” চিহ্নের পরিবর্তে “:” প্রতিস্থাপিত হয়েছে এবং তারপর নতুন একটি শর্তাংশ যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন শর্তে বলা হয়েছে, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি Loan অ্যাকাউন্টের বিপরীতে এক বা একাধিক Deal অ্যাকাউন্ট open বা create করা হলে, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র মূল Loan অ্যাকাউন্টের বিপরীতে বছরে ১ (এক) বার আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
এই শর্তটি ইসলামি ব্যাংকিংয়ের কার্যপ্রণালীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে প্রায়ই একটি মূল ফাইন্যান্সিং বা লোন কাঠামোর অধীনে একাধিক লেনদেনভিত্তিক ডিল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। আগের নিয়মে এসব আলাদা অ্যাকাউন্টের ওপরও আলাদাভাবে আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন সংশোধনীতে এই জটিলতা দূর করে শুধু মূল লোন অ্যাকাউন্টের বিপরীতে বছরে একবার শুল্ক নেওয়ার নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)
Service Code E032.00 এর আওতায় তিন লাখ টাকার সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে।
না। নতুন নিয়মে একটি লোন অ্যাকাউন্টের বিপরীতে একাধিক ডিল অ্যাকাউন্ট থাকলেও শুধু মূল লোন অ্যাকাউন্টের বিপরীতে বছরে একবার আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে এই সংশোধনী কার্যকর।
শেষকথা
আবগারি শুল্কের নতুন নিয়ম অনুযায়ী দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। প্রথমত, Service Code E032.00 এর টাকার সীমা তিন লাখ থেকে চার লাখে উন্নীত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি লোন অ্যাকাউন্টের বিপরীতে একাধিক ডিল অ্যাকাউন্ট থাকলে শুধু মূল লোন অ্যাকাউন্টে বছরে একবার শুল্ক প্রযোজ্য হবে, যা আগের জটিলতা দূর করেছে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নির্দেশনা ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ের জন্যই প্রাসঙ্গিক। নির্দিষ্ট হিসাবের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্কের সঠিক হিসাব জানতে নিজের ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

