আপনার কাছে কি ছেঁড়া, পুরোনো, ময়লাযুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত টাকা আছে? দোকানদার নিচ্ছে না, বাজারে ব্যবহার করতে সমস্যা হচ্ছে? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যই, কারণ আপনি জানেন না, ওই নোটের বিনিময়ে আপনি টাকা পাওয়ার সম্পূর্ণ আইনি অধিকার রাখেন! আপনি কি জানেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিন নোট পলিসি অনুযায়ী প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের শাখা এই নোট গ্রহণ করতে বাধ্য?
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে যেন ছেঁড়া বা মলিন নোট জমা দিতে পারে এবং বিনিময়মূল্য পায়।
ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে গ্রাহকদের কাছ থেকে ছেঁড়া-ফাটা, ক্রিপল্ড ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিনিময়মূল্য দিতে হবে।
এর উদ্দেশ্য হলো জনগণের স্বাভাবিক লেনদেন সচল রাখা এবং বাজারে ব্যবহারযোগ্য নোটের সরবরাহ নিশ্চিত করা।
কোন ধরনের নোট বিনিময় করা যাবে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিচের মানের নোটগুলো যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিয়ে ভালো নোট নেওয়া যাবে:
৫ টাকা
১০ টাকা
২০ টাকা
৫০ টাকা
বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের এই নোটগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ এগুলো সবচেয়ে বেশি হাতে হাত ঘোরে। বাজারে, হাটে, রিকশায়, চায়ের দোকানে এই নোটগুলোই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং সহজেই ছেঁড়া বা মলিন হয়ে যায়। তবে বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য নোটও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই করে বদলানো হতে পারে।
Clean Note Policy কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই Clean Note Policy চালু রেখেছে। এর লক্ষ্য হলো বাজারে পরিষ্কার, ব্যবহারযোগ্য এবং ভালো মানের নোট সরবরাহ করা।
এই নীতির আওতায়:
- ময়লাযুক্ত নোট সংগ্রহ করা হয়
- ছেঁড়া নোট আলাদা করা হয়
- অচল নোট বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়
- নতুন ও পরিষ্কার নোট সরবরাহ করা হয়
ফলে জনগণের হাতে ভালো মানের টাকা পৌঁছে যায়।
কীভাবে ব্যাংকে নোট বিনিময় করবেন?
প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. নিকটস্থ যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় যান। আপনার নিজের ব্যাংক না হলেও চলবে।
২. বিশেষ কাউন্টারে (কারেন্সি এক্সচেঞ্জ বা ক্যাশ কাউন্টারে) ছেঁড়া বা মলিন নোটগুলো জমা দিন।
৩. ব্যাংক কর্মকর্তা নোটটি যাচাই করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সমপরিমাণ ভালো (ফ্রেশ) নোট প্রদান করবেন।
৪. এই সেবা গ্রহণের জন্য কোনো চার্জ বা ফি দিতে হবে না। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
৫. ব্যাংক সেবা দিতে অস্বীকার করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হেল্পলাইনে অভিযোগ করুন।
কেন বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগ নিয়েছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিন নোট পলিসি (Clean Note Policy) একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। এর মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১. সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর লেনদেন নিশ্চিত করা: পুরনো, ময়লা নোটে জীবাণু থাকতে পারে। পরিষ্কার নোটের প্রচলন মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।
২. জাল নোট প্রতিরোধ: ছেঁড়া বা অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করা কঠিন হয়। ভালো নোটের প্রচলন জাল নোট শনাক্তে সহায়তা করে।
৩. সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি: মানুষ যখন জানবেন যে ছেঁড়া নোটেরও মূল্য আছে, তখন তারা এই নোটগুলো ব্যাংকে জমা দেবেন এবং ভালো নোট নিয়ে যাবেন।
ব্যাংক যদি নোট নিতে অস্বীকার করে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক শাখা এই সেবা দিতে বাধ্য। যদি কোনো শাখা অযৌক্তিকভাবে সেবা না দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অভিযোগ বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানাতে পারেন।
শেষকথা
আপনার ড্রয়ারে পড়ে থাকা ছেঁড়া বা ময়লাযুক্ত টাকা এখন আর অচল নয়। নিকটস্থ ব্যাংকে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী তা বদলে নিতে পারেন। অনেকেই জানেন না যে বাংলাদেশে ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় একটি আইনি অধিকার। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ এবং বাংলাদেশ কারেন্সি অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিক যেকোনো ক্ষতিগ্রস্ত মুদ্রা বিনিময়ের অধিকার রাখেন।

